হিমালয়ের বিরল উদ্ভিদ Rheum nobile-এর একক প্রজনন চক্র বৈজ্ঞানিক মহলে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

হিমালয় অঞ্চলের এক বিশেষ ধরনের বিশাল তৃণজাতীয় উদ্ভিদ, যা 'সিকিমের সুন্দরী' (*Rheum nobile*) নামে পরিচিত, তার ব্যতিক্রমী জীবনচক্রের কারণে বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই উদ্ভিদটি কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলেই জন্মায় এবং অত্যন্ত প্রতিকূল উচ্চতার পরিবেশে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০০ থেকে ৪৮০০ মিটার উপরে, সিকিম, পূর্ব নেপাল এবং দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বতের রুক্ষ অঞ্চলে এদের দেখা মেলে। এই অঞ্চলের কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতা একে উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক বিস্ময়ে পরিণত করেছে।

প্রথমত, এই উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক পরিচিতি লাভ করে ১৮৫৫ সালে, যখন ব্রিটিশ উদ্ভিদবিদ জোসেফ ডাল্টন হুকার এবং টমাস থমসন এটিকে নথিভুক্ত করেন। *R. nobile*-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর 'মনোকার্পিক' প্রজনন কৌশল। এই কৌশল অনুযায়ী, উদ্ভিদটি প্রায় তিন দশক পর্যন্ত একটি ছোট পাতার বিন্যাস (rosette) হিসেবে টিকে থাকে এবং এই দীর্ঘ সময়ে শক্তি সঞ্চয় করে। এরপর, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এটি একবারই ফুল দেয়। এই একক প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু একটি স্তম্ভাকার, প্যাগোডার মতো কাঠামো তৈরি করে, এবং ফুল দেওয়ার পরই উদ্ভিদটি সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করে। বেশিরভাগ মনোকার্পিক প্রজাতির তুলনায় *R. nobile* তার চূড়ান্ত প্রজননের আগে অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকে।

এই উদ্ভিদটি 'গ্রিনহাউস প্ল্যান্ট' বা 'তেপান্তরের ফুল' নামেও পরিচিত। এর কারণ হলো এর অর্ধস্বচ্ছ, খড়ের মতো হলুদ রঙের ব্র্যাক্ট বা সহায়ক পাতাগুলো, যা একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণের সৃষ্টি করে। এই আবরণটি একটি ক্ষুদ্র গ্রিনহাউস প্রভাব তৈরি করে, যার ফলে ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের তুলনায় প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। উচ্চ আলপাইন অঞ্চলে রাতের তীব্র হিম এবং অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B) থেকে সংবেদনশীল ফুলগুলিকে রক্ষা করার জন্য এই উষ্ণতা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত জুন ও জুলাই মাসে এর ফুল ফোটে এবং ধারণা করা হয় যে, মূলত ফাঙ্গাস মশা বা মাছি (fungus gnats) দ্বারা এর পরাগায়ন ঘটে থাকে।

যেসব উচ্চভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা সচরাচর ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে না, সেখানেই *R. nobile* তার জীবনধারণ করে। ফুল ফোটার সময় এর উচ্চতা দাঁড়ায় ১ থেকে ২ মিটার। এর পুরু রাইজোম বা মূলকাণ্ডের ব্যাস প্রায় ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এর উজ্জ্বল হলুদ শাঁস ঐতিহ্যগতভাবে তিব্বতি চিকিৎসাবিদ্যায় মূত্রবর্ধক হিসেবে এবং উচ্চতাজনিত মাইগ্রেনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। *Rheum nobile*-এর এই অসাধারণ জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশগুলির মধ্যে একটিতে টিকে থাকার জন্য উদ্ভিদজগৎ কী ধরনের বিবর্তনীয় জটিলতা প্রদর্শন করতে পারে। এই উদ্ভিদটি উচ্চভূমির উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

17 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Economic Times

  • The Economic Times

  • Grokipedia

  • PictureThis

  • Wikipedia

  • The Old Dairy Nursery & Gardens

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।