কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (ইউবিসি)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে র্যাকুনরা কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণের তাগিদেই জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শন করে না, বরং তাদের মধ্যে অন্তর্নিহিত কৌতূহলও কাজ করে। নগর-অভিযোজক এই প্রাণীদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা যাচাই করতে গবেষকরা একটি বিস্তারিত পরীক্ষা পরিচালনা করেন। ইউবিসি-এর গবেষক হানা গ্রিবলিং এবং ডঃ সারাহ বেনসন-আমরাম এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন, যেখানে র্যাকুনদের আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষকরা র্যাকুনদের প্রেরণা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন স্তরের জটিলতাযুক্ত একটি বহু-প্রবেশাধিকারের পাজল বক্স ব্যবহার করেন। এই বাক্সটিতে একটি মাত্র মার্সম্যালো পুরষ্কার হিসেবে রাখা হয়েছিল। মূল পরীক্ষাটি শুরু হয় খাদ্যটি তুলে নেওয়ার পরে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্সম্যালো খাওয়া শেষ হওয়ার পরেও র্যাকুনরা বাক্সটির নতুন নতুন প্রক্রিয়াগুলো অন্বেষণ ও উন্মোচন করতে থাকে, যা প্রমাণ করে যে তাদের এই কার্যকলাপ কেবল খাদ্যের দ্বারা চালিত ছিল না। বিজ্ঞানীরা এই আচরণটিকে 'তথ্য অনুসন্ধান' বা 'ইনফরমেশন ফোরজিং' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা তাদের মধ্যে জ্ঞান অর্জনের একটি সহজাত প্রেরণা নির্দেশ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে র্যাকুনরা তাদের কৌশলের পরিবর্তন করে, বিশেষত কাজের কঠিনতার ওপর ভিত্তি করে তারা পূর্ব-জানা সমাধানগুলোর প্রতি বেশি পক্ষপাত দেখায়। যখন ধাঁধাগুলো সহজ ছিল, তখন তারা একাধিক সমাধান অন্বেষণ করত, কিন্তু কাজ কঠিন হলে তারা পরিচিত পদ্ধতির উপর নির্ভর করত। এই নমনীয়তা তাদের ভ্যাঙ্কুভারের মতো শহুরে পরিবেশে উন্নতি লাভে সহায়তা করে, যেখানে তাদের সংবেদনশীল সামনের থাবাগুলো মানুষের তৈরি তালা ও হাতল নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানুষের রেস্তোরাঁয় নতুন খাবার অর্ডার করার সিদ্ধান্তের সাথে তুলনীয়, যেখানে কম ঝুঁকিতে নতুন কিছু চেষ্টা করা হয় এবং উচ্চ ঝুঁকিতে পরিচিত পছন্দের দিকে ফেরা হয়।
এই পরীক্ষাটি কলোরাডোর একটি গবেষণা কেন্দ্রে বন্দী র্যাকুনদের উপর করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি ২০ মিনিটের ট্রায়ালে একটি মাত্র মার্সম্যালো দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে এই প্রাণীগুলো কেবল ক্যালোরি গ্রহণের জন্যই নয়, বরং পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্যও শক্তি ব্যয় করে। এই ধরনের অনুসন্ধানমূলক আচরণ, যেখানে তাৎক্ষণিক পুরষ্কারের অনুপস্থিতিতেও শেখার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তা র্যাকুনের উন্নত জ্ঞানীয় কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়। এই গবেষণাটি অ্যানিমেল বিহেভিয়ার নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি র্যাকুনদের বুদ্ধিমান সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে খ্যাতিকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থন করে। গবেষকরা মনে করেন, এই বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝা গেলে অন্যান্য শহুরে বন্যপ্রাণী, যেমন ভাল্লুক, যারা মানুষের তৈরি সম্পদের নাগাল পেতে সমস্যা সমাধানের কৌশল ব্যবহার করে, তাদের ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।



