বিড়ালের অবতরণ কৌশল: মেরুদণ্ডের নমনীয়তা ও দৃঢ়তার নতুন বিশ্লেষণ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

বিড়াল শূন্যে থাকাকালীন সর্বদা পায়ে ভর করে অবতরণ করে—এই বহু পুরোনো রহস্যটি সম্প্রতি ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ফিজিওলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরির গবেষকদের শারীরস্থানিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন স্পষ্টতা লাভ করেছে। ইয়াসুও হিগুরাশি এবং তার সহকর্মীরা বিড়ালের মেরুদণ্ডের ঘূর্ণনের পরিসীমা ও দৃঢ়তার মতো যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছেন। এই অনুসন্ধানের ফলাফলগুলি 'দ্য অ্যানাটমিক্যাল রেকর্ড' নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিড়ালদের এই অসাধারণ ক্ষমতার মূলে থাকা শারীরবৃত্তীয় সুবিধাগুলির উপর আলোকপাত করে।

গবেষকরা বিড়ালের মেরুদণ্ডকে দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করে পরীক্ষা চালান: বক্ষঃ (উপরের) এবং কটিদেশীয় (নিচের) অঞ্চল। মৃত বিড়ালের মেরুদণ্ড পরীক্ষা করে দেখা যায় যে বক্ষঃ মেরুদণ্ড অত্যন্ত নমনীয়, যা উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণনের সুযোগ দেয়, যেখানে কটিদেশীয় মেরুদণ্ড তুলনামূলকভাবে দৃঢ় ও ভারী। নির্দিষ্টভাবে, বক্ষঃ মেরুদণ্ডের ঘূর্ণনের পরিসীমা প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে, যা মানুষের ঘাড়ের নমনীয়তার সমতুল্য, অন্যদিকে কটিদেশীয় অঞ্চলের ঘূর্ণনের পরিসীমা বক্ষঃ অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল। এই কাঠামোগত পার্থক্যই বিড়ালকে বাতাসের মধ্যে নিজেদের অবস্থান দ্রুত সংশোধন করতে সহায়তা করে।

ফ্রেম-বাই-ফ্রেম ভিডিও বিশ্লেষণ ব্যবহার করে গবেষকরা পতনের সময় একটি ক্রমিক ঘূর্ণন প্যাটার্ন নিশ্চিত করেছেন, যা পুরোনো 'লেগস ইন, লেগস আউট' মডেলকে সমর্থন করে। এই প্রক্রিয়া অনুসারে, বিড়ালের শরীরের উপরের অংশ প্রথমে মোচড় দেয় এবং সামান্য বিলম্বের পরে শরীরের নিচের অংশ অনুসরণ করে। এই ঘূর্ণন সম্ভব হয় কারণ সামনের অংশটি প্রথমে ঘোরে, যা বিড়ালের শরীরের মোট ভরের প্রায় অর্ধেক বহন করে, এবং তারপরে দৃঢ় পিছনের অংশটি একই দিকে মোচড় দেয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে বিড়ালগুলি তাদের অবস্থান ঠিক করার জন্য ধারাবাহিকভাবে ডান দিকে ঘোরার প্রবণতা দেখায়, যা তাদের স্ব-সংশোধন আচরণের একটি প্রাকৃতিক পক্ষপাত নির্দেশ করে।

এই ধরনের গবেষণার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে; ফরাসি শারীরতত্ত্ববিদ এতিয়েন-জুলস মারে ১৮৯৪ সালে প্রথম দিকের ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রমাণ করেছিলেন যে বিড়ালরা সাহায্য ছাড়াই বাতাসে নিজেদের সোজা করতে পারে। যদিও সেই সময় থেকে পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক আলোচনা হয়েছে, তবে এই নতুন গবেষণাটি বিড়ালের অঙ্গবিন্যাস এবং গতির উপর মনোনিবেশ করে, যা এই রহস্যের শারীরস্থানিক ভিত্তি উন্মোচন করে। গবেষকদের মতে, বক্ষঃ অঞ্চলের উচ্চ নমনীয়তা এবং কটিদেশীয় অঞ্চলের দৃঢ়তা এই 'এয়ার-রাইটিং' আচরণের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত।

বিড়ালের এই অনন্য মেরুদণ্ড, যা অতিরিক্ত বক্ষঃ এবং কটিদেশীয় কশেরুকা এবং ১৩টি পাঁজর দ্বারা গঠিত, তাদের শরীরের নমনীয়তা ও গতিশীলতার জন্য দায়ী। উপরন্তু, বিড়ালের অগ্রভাগ কাঁধের সাথে মুক্ত-ভাসমান কলার হাড় দ্বারা সংযুক্ত থাকে, যা তাদের শরীরকে সংকীর্ণ স্থান দিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়। এই আবিষ্কার প্রাণীর গতিশীলতা সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি রোবোটিক সিস্টেমের নকশার ক্ষেত্রেও নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, যেখানে দ্রুত এবং নির্ভুল অঙ্গবিন্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজন। এই তথ্যগুলি বিড়ালের অসাধারণ শারীরিক দক্ষতার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আরও মজবুত করে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Virgin Islands Daily News

  • Smithsonian Magazine

  • Charlotte Today

  • Science Alert

  • Skulls in the Stars

  • The Jerusalem Post

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।