মালিকের ওপর বিড়ালের ঘুমানোর কারণ: সহজাত প্রবৃত্তি ও নির্ভরতার প্রতিফলন

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা বিড়াল কেন প্রায়শই তাদের মালিকের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে, তা বুঝতে গেলে সহজাত প্রবৃত্তি, শারীরিক গঠন এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার এক জটিল মিশ্রণ উন্মোচিত হয়। এই সাধারণ আচরণটি কেবল স্নেহ প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে উষ্ণতা লাভ, পরিবেশের প্রতি সতর্ক থাকা এবং পরিচিত গন্ধের প্রতি আকর্ষণ—এই সমস্ত ব্যবহারিক যুক্তির প্রতিফলন, যা বিড়ালের কার্যকলাপকে চালিত করে।

বিড়ালরা স্বাভাবিকভাবেই এমন বিশ্রামের স্থান খোঁজে যেখানে তারা উষ্ণতা, নিরাপত্তা এবং পরিচিত ঘ্রাণ পেতে পারে, কারণ তাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা মানুষের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে, যা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ১০২.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে, এবং এই উচ্চ তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য তাদের কার্যকর তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিড়ালরা জন্মগতভাবে শিকারি প্রাণী হওয়ায়, দিনের অনেকটা সময় ঘুমিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে রাখে, যাতে শিকারের সময় তারা পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারে; গৃহপালিত বিড়াল দিনে গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা ঘুমায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

মালিকের বুকের ওপর বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাসটি বিড়ালছানাদের ক্ষেত্রে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নিরাপত্তার অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে, কারণ তারা সেখানে ধারাবাহিক উষ্ণতা এবং হৃদস্পন্দনের ছন্দময় শব্দ অনুভব করে। অন্যদিকে, পায়ের কাছে ঘুমানোর সিদ্ধান্তটি পরিবেশের কোনো আকস্মিক পরিবর্তন অনুভব করলে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য একটি কৌশলগত অবস্থান হতে পারে। বিড়ালদের এই উষ্ণতা খোঁজার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, কারণ ঠাণ্ডা পরিবেশে তারা কম চলাচল করে শক্তি সংরক্ষণ করে এবং শরীরের তাপ রক্ষা করে।

যেসব বিড়াল শৈশবে তাড়াতাড়ি মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাদের মধ্যে শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে আশ্বাস ও নিরাপত্তার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও মালিকেরা প্রায়শই এই আচরণকে নিছক ভালোবাসা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, বিশেষজ্ঞরা অতি-মানবীয়করণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন, যদিও এর ফলে সৃষ্ট বিশ্বাসের বন্ধন নিঃসন্দেহে বাস্তব এবং উপকারী। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে বিড়াল পালনকারীদের শতকরা ৮৬ ভাগ মনে করেন তাদের পোষা প্রাণী মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিড়ালের এই 'ঘুরঘুর' শব্দ, যা ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে থাকে, তা হাড়ের জোড়া লাগা ত্বরান্বিত করতে এবং পেশীর প্রদাহ কমাতে সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিড়াল পালনের ফলে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন কর্টিসল কমে এবং সেরোটোনিন ও অক্সিটোসিনের মতো হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা মনকে শান্ত রাখে। বিড়ালরা ক্রেপাসকুলার প্রাণী, অর্থাৎ তারা ভোর এবং সন্ধ্যার সময় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, যা তাদের বন্য পূর্বপুরুষদের শিকারের সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চূড়ান্তভাবে, মালিকের ওপর ঘুমানো গভীর আস্থার প্রতীক, যেখানে বিড়াল উষ্ণতা এবং পরিচিত গন্ধের সন্ধানে থাকে, যা মালিক ও পোষ্যের মধ্যে একটি পারস্পরিক আবেগিক সংযোগকে দৃঢ় করে। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় ২২০ মিলিয়ন মালিকানাধীন বিড়াল ছিল, যা তাদের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। বিড়ালের এই আচরণ কেবল আরাম বা স্নেহের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি তাদের শারীরিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের প্রতি সহজাত সতর্কতার একটি সম্মিলিত কৌশল, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Olhar Digital - O futuro passa primeiro aqui

  • Kiwoko

  • Portal de Notícias Brasil

  • GR6

  • Noticias Ambientales

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।