বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত করে যে শিম্পাঞ্জিরা মানুষের অনুরূপ 'যৌক্তিক চিন্তাভাবনা'র দক্ষতা প্রদর্শন করে। এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের মত পরিবর্তন করার ক্ষমতা, যা নমনীয় উপলব্ধির একটি মূল ভিত্তি, তা কেবল মানুষের একচেটিয়া নয়। গবেষক দল উগান্ডার Ngamba Island Chimpanzee Sanctuary-তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, যা চোরাশিকারিদের হাত থেকে উদ্ধার করা শিম্পাঞ্জিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
গবেষণায় শিম্পাঞ্জিদের দুটি বাক্সের মধ্যে একটি বেছে নিতে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যার একটিতে খাদ্যবস্তু ছিল। প্রাথমিকভাবে, প্রাণীদের পুরস্কারের অবস্থান সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা খাদ্যের অবস্থান বোঝাতে দুর্বল ইঙ্গিত (যেমন বাক্স ঝাঁকালে শব্দের উপস্থিতি) এবং শক্তিশালী ইঙ্গিত (যেমন সরাসরি চোখে দেখা) ব্যবহার করেন। গুরুত্বপূর্ণভাবে, যখন অন্য বাক্সটির দিকে নির্দেশ করে আরও জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তখন শিম্পাঞ্জিরা প্রায়শই তাদের পছন্দ পরিবর্তন করে। এই নমনীয় যুক্তিবিদ্যা প্রায় চার বছর বয়সী মানব শিশুদের মধ্যে দেখা যুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এই গবেষণার সহ-লেখক, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অধ্যাপক ইয়ান এঙ্গেলম্যানের মতে, যুক্তির মূল দিকটি হলো তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস গঠন করা এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন করা। গবেষক দলে ইউসি বার্কলির পোস্টডক্টরাল গবেষক এমিলি স্যানফোর্ড এবং ইউট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হান্না শ্লেইহাউফও ছিলেন। দলটি নিশ্চিত করে যে এটি প্রকৃত যুক্তি, নিছক কোনো প্রতিক্রিয়া নয়। তারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা এবং কম্পিউটেশনাল মডেল ব্যবহার করেন, যা সরল ব্যাখ্যাগুলিকে বাতিল করে দেয়, যেমন কেবল সাম্প্রতিকতম বা সবচেয়ে সুস্পষ্ট সংকেতে সাড়া দেওয়া।
এই ফলাফলগুলি প্রমাণ করে যে প্রাণীরা কেবল প্রবৃত্তির বশে কাজ করে না; তারা বিরতি নেয়, প্রতিফলন ঘটায় এবং আরও শক্তিশালী প্রমাণ পেলে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। উদাহরণস্বরূপ, যখন শক্তিশালী ইঙ্গিতটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় (যেমন বাক্সে পাথর পাওয়া যায়), তখন শিম্পাঞ্জিরা বিভ্রান্তিকর প্রমাণ প্রত্যাখ্যান করে আরও নির্ভরযোগ্য সংকেতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই সক্ষমতা ইঙ্গিত দেয় যে তারা তথ্যের ক্রম এবং নির্ভরযোগ্যতাও বিবেচনা করছে। এই গবেষণাটি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় যে প্রমাণ সাপেক্ষে বিশ্বাস গঠন ও সংশোধনের ক্ষমতা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট। গবেষকরা এখন অন্যান্য প্রাইমেট প্রজাতির মধ্যেও এই তুলনামূলক মানচিত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন।




