ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে 'চরম আতঙ্ক': সূচকের বড় পতন
সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai
২০২৬ সালের ৮ মার্চের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের 'ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স' বা ভয় ও লোভের সূচক আবারও বড় ধরনের পতনের সম্মুখীন হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাস পাওয়া গেলেও সূচকটি বর্তমানে ১৮ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে, যা বাজারকে পুনরায় 'চরম আতঙ্ক' বা 'এক্সট্রিম ফিয়ার' জোনে ঠেলে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই তীব্র ভীতি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে দায়ী করা হচ্ছে।
ক্রিপ্টো বাজারের অংশগ্রহণকারীদের আবেগীয় অবস্থা পরিমাপক এই সূচকটি চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ২৫ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চাপে সেই সাময়িক উন্নতি দ্রুত বিলীন হয়ে যায়। ডিজিটাল সম্পদের বাজার বর্তমানে একটি দীর্ঘমেয়াদী 'বেয়ারিশ' বা মন্দা চক্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিটকয়েনের (BTC) ব্যাপক দরপতনের মাধ্যমে। সেই সময় বিটকয়েন তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য থেকে ৫০ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে কারণ প্রায় ৩৮ শতাংশ অল্টকয়েন তাদের সর্বকালের সর্বনিম্ন মূল্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ক্রিপ্টোকুয়ান্টের (CryptoQuant) বিশ্লেষক ডার্কফস্টের মতে, বর্তমান বাজারের এই অবস্থা এফটিএক্স (FTX) এক্সচেঞ্জ পতনের পরবর্তী সময়ের চেয়েও বেশি ভয়াবহ।
বাজারে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পাওয়া বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তারই প্রমাণ দেয়। অ্যানালিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম সেন্টিমেন্টের (Santiment) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অল্টকয়েন সংক্রান্ত আলোচনার হার গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতি ক্রিপ্টো বাজারের এই অতি-সংবেদনশীলতা বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৮.৫২১ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত নীতির অনিশ্চয়তা বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগল ট্রেন্ডসে 'বিটকয়েন শূন্যে যাচ্ছে' (Bitcoin going to zero) লিখে সার্চ করার হার ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বাজারের গভীর হতাশাকেই ফুটিয়ে তোলে। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, 'চরম আতঙ্ক' পর্যায়গুলো অনেক সময় বাজার পুনরুদ্ধারের আগের ধাপ হিসেবে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সূচকটি ৫ পয়েন্টের বার্ষিক সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। আবার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সূচকটি ৬১ পয়েন্টে উঠে প্রথমবারের মতো 'লোভ' বা গ্রিড জোনে প্রবেশ করেছিল, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর প্রথম ছিল। অল্টারনেটিভ (Alternative) প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষকরা সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বাজার সংশোধনের একটি সংকেত হিসেবে বিবেচনা করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে, বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন ক্রিপ্টো বাজার থেকে সরিয়ে সোনা এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মতো নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিচ্ছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো এখনও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবেই আচরণ করছে। স্পট ইটিএফের (ETF) মাধ্যমে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বর্তমানে তাদের ঝুঁকির মাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করছেন। এই সতর্ক অবস্থানের কারণে বাজারে প্রয়োজনীয় তারল্য ফিরে আসতে দেরি হচ্ছে, যা অল্টকয়েন খাতের টেকসই পুনরুদ্ধারের পথে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
14 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Cointelegraph
Cointelegraph
Santiment Community Insights
CoinMarketCap
MEXC
Forbes
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



