ইথেরিয়াম ওয়ালেটের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ট্রানজ্যাকশন সিমুলেশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন ভিটালিক বুটেরিন
সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai
ইথেরিয়ামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিটালিক বুটেরিন সম্প্রতি ইথেরিয়াম ইকোসিস্টেমের ওয়ালেট এবং স্মার্ট কন্ট্রাক্টগুলোতে ট্রানজ্যাকশন সিমুলেশন এবং ব্যবহারকারীর অভিপ্রায় বা 'ইউজার ইনটেন্ট' সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার এই সাম্প্রতিক আহ্বানটি ইথেরিয়ামের একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নেটওয়ার্কের বেস লেয়ার বা প্রাথমিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করা। বুটেরিন মনে করেন যে, বর্তমানের জটিল ক্রিপ্টো পরিবেশে ব্যবহারকারীদের সম্পদ রক্ষা করতে হলে প্রোটোকল স্তরে আরও স্বচ্ছতা আনা জরুরি।
বুটেরিন জোর দিয়ে বলেছেন যে, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (UX) একে অপরের পরিপূরক এবং এটি তখনই সার্থক হয় যখন প্রোটোকলগুলো ব্যবহারকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে। তার প্রস্তাবিত 'নিরাপত্তা-ভিত্তিক অভিপ্রায়' পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীকে প্রথমে তার কাঙ্ক্ষিত কাজটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ব্লকচেইনে সেই অপারেশনের সম্ভাব্য ফলাফলগুলো একটি সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখে নিতে হবে এবং সবশেষে 'ওকে' বা 'ক্যান্সেল' বাটনে ক্লিক করে চূড়ান্ত সম্মতি দিতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে 'কোহাকু' (Kohaku) নামক একটি উদ্যোগ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ট্রানজ্যাকশন সিমুলেশন নিয়ে কাজ করছে, যা লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
ভিটালিক বুটেরিন স্বীকার করেছেন যে, ব্যবহারকারীর অভিপ্রায় বা ইনটেন্ট সংজ্ঞায়িত করা একটি অত্যন্ত জটিল বিষয় এবং এই জটিলতার কারণেই 'নিখুঁত নিরাপত্তা' অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। তার যুক্তি অনুযায়ী, একটি সফল সমাধান তখনই সম্ভব যখন ব্যবহারকারীর অভিপ্রায় একাধিক স্তরে যাচাই করা হবে এবং সিস্টেমটি কেবল তখনই কাজ করবে যখন এই স্তরগুলো একে অপরের সাথে মিলে যাবে। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ লেনদেনগুলোকে সহজ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোকে আরও কঠিন করে তোলা, যা বর্তমানের অস্বচ্ছ পারমিশন ব্যবস্থার ঠিক বিপরীত। বর্তমানে অনেক স্ক্যাম ব্যবহারকারীদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদের অজান্তেই জটিল রুটিংয়ের মাধ্যমে তহবিল সরিয়ে নেয়।
ওয়ালেটের নিরাপত্তা বৃদ্ধির এই উদ্যোগটি ২০২৬ সালের জন্য ইথেরিয়ামের বৃহত্তর কৌশলগত পরিবর্তনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরিকল্পনায় মূলত বেস লেয়ারকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে, যেখানে লেয়ার ২ (L2) নেটওয়ার্কগুলো মূল ট্রানজ্যাকশন ভলিউম সামলাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ক্রিপ্টো শিল্পে প্রায় ৩৭০.৩ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে একটি সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ঘটনাতেই প্রায় ২৮৪ মিলিয়ন ডলার খোয়া গেছে, যা বুটেরিনের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তোলে। অধিকাংশ ফিশিং আক্রমণ মূলত মানুষের ভুলকে পুঁজি করে পরিচালিত হয়, যা সিমুলেশনের মাধ্যমে রোধ করা সম্ভব।
ইথেরিয়াম ফাউন্ডেশন কর্তৃক উপস্থাপিত ২০২৬ সালের রোডম্যাপে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য নেটিভ অ্যাকাউন্ট অ্যাবস্ট্রাকশন এবং 'ওপেন ইনটেন্টস' ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে ক্রস-চেইন যোগাযোগ সহজ করার কথা বলা হয়েছে। ট্রানজ্যাকশন সিমুলেশন মূলত অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা যেমন স্পেন্ডিং লিমিট এবং মাল্টি-সিগনেচার ভেরিফিকেশনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যা বুটেরিন নিজেই সুপারিশ করেছেন। এছাড়া রোডম্যাপে কোয়ান্টাম হুমকি মোকাবিলা এবং ট্রানজ্যাকশন প্রসেসিংয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে 'FOCIL' মেকানিজম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে 'গ্ল্যামস্টারডাম' (Glamsterdam) এবং পরবর্তীতে 'হেগোটা' (Hegotá) আপডেটের মাধ্যমে গ্যাসের সীমা ১০০ মিলিয়ন ইউনিটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিশেষ বলা যায়, ট্রানজ্যাকশন সিমুলেশনের বিষয়ে ভিটালিক বুটেরিনের এই প্রস্তাব কেবল একটি বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত ধারণা নয়। বরং এটি ইথেরিয়ামের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল, যা ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকির মুখে ব্যবহারকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে ইথেরিয়াম নেটওয়ার্ক সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আরও নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্লকচেইন প্রযুক্তির গণ-গ্রহণে সহায়তা করবে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Cointelegraph
BeInCrypto
Cointelegraph
Phemex
Binance Square
Cointribune
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
