ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিটকয়েনের অস্থিরতা: ৬৮,২০০ ডলারের কাছাকাছি CME গ্যাপ পরীক্ষা
সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai
২০২৬ সালের ২৩ মার্চ, সোমবার, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রধান ডিজিটাল সম্পদ বিটকয়েন (BTC) ৬৮,২৫০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছিল, যা সপ্তাহান্তের লেনদেনের পর শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (CME) তৈরি হওয়া ৭০,০০০ ডলারের শূন্যস্থান বা 'গ্যাপ' পরীক্ষা করছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে আল্টিমেটাম দেওয়ার পর শনিবার থেকেই বাজারে এই 'রিস্ক-অফ' প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতির ফলে ক্রিপ্টো বাজারে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের লিকুইডেশন বা সম্পদ অবলুপ্তি ঘটে, যার বেশিরভাগই ছিল লং পজিশন। নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়ায় মার্কিন ডলার ইনডেক্স (DXY) ১০০.০০-এর মনস্তাত্ত্বিক স্তর অতিক্রম করে শক্তিশালী হয়েছে, যা সাধারণত বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে দেখা যায়। মজার বিষয় হলো, সোনা ও রূপার ফিউচার মূল্যে বড় পতন দেখা গেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে সাম্প্রতিক রেকর্ড উচ্চমূল্যকে নিছক নিরাপদ আশ্রয়ের বদলে ফটকা চাহিদার ফল হিসেবে ইঙ্গিত করে।
বাজারের প্রযুক্তিগত দিকটি মূলত CME গ্যাপকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে। যেহেতু ফিউচার মার্কেট সপ্তাহান্তে বন্ধ থাকে কিন্তু বিটকয়েন স্পট মার্কেট ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে, তাই শুক্রবারের বন্ধ এবং সোমবারের খোলার মূল্যের মধ্যে এই ব্যবধান তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প 'ফলপ্রসূ' আলোচনার প্রেক্ষিতে সামরিক হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলে বিটকয়েন সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৭১,০০০ ডলারে পৌঁছায়, যদিও খবরের প্রতি বাজারের সংবেদনশীলতা তখনও অত্যন্ত বেশি ছিল।
বিটকয়েন যখন অস্থির ছিল, তখন অল্টকয়েনগুলো দিনের শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। ETHFI, HYPE এবং SKY-এর মতো ডিসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স (DeFi) টোকেনগুলো প্রায় ৩% মূল্য হারায়। তবে পরবর্তীতে বিটকয়েনের পুনরুদ্ধারের সাথে সাথে ইথেরিয়াম (ETH) ৪.৫% বেড়ে ২,১৭২.৯২ ডলারে এবং XRP ২.৮% বেড়ে ১.৪২ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, প্রাইভেসি টোকেনগুলো ৩% থেকে ৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে অনিশ্চয়তার সময়েও তাদের স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে, যা বাজারের নির্দিষ্ট কিছু অংশে পুঁজির প্রবাহ নিশ্চিত করে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফেডারেল রিজার্ভ তাদের মার্চ মাসের বৈঠকে সুদের হার ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫% এর মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে এবং ২০২৬ সালে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই কঠোর মুদ্রানীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ডলারকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করছে যা বিটকয়েনের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটকয়েন এর আগে ৭৫,০০০ ডলারের রেজিস্ট্যান্স স্তর অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং বর্তমান ৬৮,২৫০ ডলারের স্তরটি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকের মূল্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে যা বাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানকে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন যদি তারা নৌচলাচল স্বাভাবিক না করে। জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধন অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সপ্তাহান্তের কম তারল্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনুপস্থিতিতে এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রিপ্টো বাজারে বড় ধরনের উত্থান-পতনের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
CoinDesk
Angel One
Wikipedia
BusinessToday
Gotrade News
Investing.com
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



