বড় বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সংগ্রহের চাপে ৬৮,০০০ ডলারে বিটকয়েনের স্থিতাবস্থা
সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন (BTC) একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে বা কনসোলিডেশন ফেজে অবস্থান করছে, যেখানে এটি ৬৮,০০০ ডলারের শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মূল্য পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, বিশেষ করে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির কারণে এই সম্পদের স্বল্পমেয়াদী ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ৬০,০০০ ডলারের সাপোর্ট জোন থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বাউন্স দেখা গেলেও বিটকয়েন এখনও সামগ্রিকভাবে একটি বিয়ারিশ কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে বিটকয়েনের মূল প্রতিরোধের সীমা ৬৮,৫০০ থেকে ৭১,৬৫০ ডলারের মধ্যে অবস্থান করছে এবং ৬৭,১৮০ ডলারকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিটকয়েনের লেনদেনের সীমা ছিল ৬৭,৮৩০ ডলার থেকে ৬৮,১৬২ ডলারের মধ্যে। ক্রিপ্টোকোয়ান্টের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিশ্লেষক মোরেনোডিভির অন-চেইন বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে যে, বড় বিনিয়োগকারী বা 'ক্রিপ্টো তিমিরা' প্রায় ২০৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফা সংগ্রহ বা প্রফিট বুকিং করেছেন। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এটি সপ্তম বারের মতো ঘটল যেখানে তিমিদের রিয়েলাইজড প্রফিট ২০০ মিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বড় বিনিয়োগকারীদের এই ধরনের মুনাফা সংগ্রহের প্রবণতা প্রায়শই বাজারে অস্থিরতা বা টার্বুলেন্সের পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করে। তবে ক্রিপ্টোকোয়ান্ট এবং মোরেনোডিভি মনে করেন যে, তিমিদের এই আচরণ আতঙ্কিত হয়ে সম্পদ বিক্রির পরিবর্তে বরং দীর্ঘমেয়াদী আত্মবিশ্বাস এবং স্বল্পমেয়াদী প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়। এই মুনাফা সংগ্রহের ফলে বাজারে যে সাময়িক তারল্য ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, তা স্থিতিশীল হওয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন। যদি বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকে, তবে দাম পুনরায় স্থিতিশীল হতে পারে, যা অতীতে অনেক ক্ষেত্রে বুলিশ রিভার্সাল বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সূচনা করেছে।
বাজার বর্তমানে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে কারণ এক্সচেঞ্জগুলোতে তিমিদের অনুপাত বেড়ে ০.৬৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ এবং এটি বড় বিনিয়োগকারীদের বিক্রয় প্রক্রিয়ার সক্রিয়তাকে নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আইইইপিএ (IEEPA) আইনের অধীনে পূর্ববর্তী শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর জবাবে মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার অধীনে নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক প্রবর্তন করে, যা পরবর্তীতে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয় এবং এটি ১৫০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চতুর্থ প্রান্তিকে মার্কিন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৪ শতাংশে নেমে আসা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর বা 'রিস্ক-অফ' মানসিকতা তৈরি করেছে।
এই সমস্ত প্রভাবক বিবেচনা করে বিশ্লেষকরা এখন পর্যবেক্ষণ করছেন যে বর্তমান বাজারের এই শান্ত ভাব কি কোনো বড় ধরনের অস্থিরতার সংকেত নাকি এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী বিয়ারিশ চক্রের সূচনা। ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফা সংগ্রহের ঐতিহাসিক প্যাটার্ন অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতার উচ্চ সম্ভাবনা থাকলেও এটি স্থানীয়ভাবে দামের পতনের শেষ সীমার কাছাকাছি থাকারও ইঙ্গিত দিতে পারে। যদি বিক্রির চাপ শোষিত না হয়, তবে বিটকয়েনের দাম ৬৫,০০০ ডলারে নেমে আসতে পারে অথবা পুনরায় ৬০,০০০ ডলারের সাপোর্ট লেভেল পরীক্ষা করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বড় বিনিয়োগকারীদের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ এবং বাহ্যিক অর্থনৈতিক প্রভাবের একটি জটিল সন্ধিক্ষণ, যেখানে বিনিয়োগকারীদের তারল্য প্রবাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলগুলোর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা প্রয়োজন।
9 দৃশ্য
উৎসসমূহ
NewsBTC
NewsBTC
Binance Square
FOREX24.PRO
MEXC News
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
