গত বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। এই উত্থানের মূল কারণ ছিল একদিন আগেই, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই কর্তৃক নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল 'জেমিনি ৩' (Gemini 3) এর ঘোষণা। প্রযুক্তি বাজারে এই ধরনের অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রবল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে এই শেয়ারের মূল্যের উল্লম্ফনে, বিশেষত জেনারেটিভ এআই (Generative AI) ক্ষেত্রে কোম্পানির সক্ষমতার ওপর আস্থা বেড়েছে।
বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, বুধবার GOOGL শেয়ার প্রায় ৫.০৯% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি শেয়ার ২৯৯.৪২ ডলারে পৌঁছেছিল, আবার কিছু তথ্যে দেখা যায় এটি ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ সীমা ২৯৪.৩৯ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছিল। এই উত্থানের ফলে অ্যালফাবেটের বাজার মূলধন সাময়িকভাবে প্রায় ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা অল্প সময়ের জন্য মাইক্রোসফটকে বাজার মূলধনের দিক থেকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি, কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ ১০২ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের ঘোষণা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব আরও দৃঢ় হয়।
জেমিনি ৩ মডেলটি ঘোষণার পরপরই এর 'প্রো' সংস্করণটির বিতরণ শুরু হয়। এই সংস্করণে উন্নতমানের যুক্তি প্রদানের ক্ষমতা এবং মাল্টিমোডালিটি (বহুমুখীতা) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর আসল উদ্দেশ্য আরও নির্ভুলভাবে অনুধাবন করা।
গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কোরায় কাভুকচুওলু এই উন্মোচনকে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (AGI) তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জেমিনি ৩ প্রো মডেলটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্কে তার পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, 'হিউম্যানিটি'স লাস্ট এক্সাম' নামক পরীক্ষায় এটি GPT-5 Pro এর ৩১.৬% এর তুলনায় ৩৭.৪% স্কোর অর্জন করেছে, যা এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
এই সাফল্যের পাশাপাশি, গুগল ডিপমাইন্ড এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ফলিত এআই সমাধানগুলিকে দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরে একটি নতুন গবেষণা পরীক্ষাগার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এটি আঞ্চলিক প্রযুক্তির উন্নয়নে তাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
শেয়ারের এই ইতিবাচক গতিপথের পেছনে আরেকটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ওয়ারেন বাফেটের মালিকানাধীন বহুজাতিক সংস্থা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের অ্যালফাবেটে নতুন করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক দাখিল করা ১৩এফ ফাইলিং অনুসারে, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাবে বার্কশায়ার প্রায় ১৭.৮৫ মিলিয়ন শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। বাফেটের জন্য এটি প্রযুক্তি খাতে একটি বিরল এবং বিশাল বিনিয়োগ, কারণ তিনি অতীতে গুগল বা অ্যালফাবেটে বিনিয়োগ না করার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। এই নতুন অবস্থানটি বার্কশায়ারের মোট শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে দশম বৃহত্তম স্থান দখল করে নিয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ঐ সময়ে ২৮৩.২ বিলিয়ন ডলার।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যালফাবেটকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো এর শক্তিশালী নগদ প্রবাহ এবং অন্যান্য এআই জায়ান্টদের তুলনায় এর মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকা।
এই সমস্ত ঘটনার মধ্যে, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া এবং অ্যানথ্রপিক তাদের কৌশলগত জোটগুলিকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে, যা এআই অবকাঠামো নির্মাণে চলমান প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষত, এনভিডিয়ার সহায়তায় মাইক্রোসফট অ্যাজুর প্ল্যাটফর্মে অ্যানথ্রপিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের কম্পিউটিং ক্ষমতা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।




