নিদ্রা ও প্রাতরাশের সমন্বয়ে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
সামগ্রিক সুস্থতা এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতার জন্য রাত্রিকালীন ঘুমের ব্যাঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং সকালের পুষ্টির মান উন্নত করা অপরিহার্য, যা সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য গবেষণায় দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত। রাতের গভীর ঘুমের অভাব সরাসরি মেজাজ এবং মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষত, রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ঘুম ভেঙে যাওয়া প্রায়শই সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রের (sympathetic nervous system) অতিরিক্ত সক্রিয়তার ফল, যা শরীরকে 'লড়াই বা পালানোর' (fight or flight) অবস্থায় রাখে এবং পুনরায় ঘুমাতে বাধা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে, বিশেষজ্ঞরা প্যারাসিমপ্যাথেটিক বা 'বিশ্রাম ও শিথিলতা' (rest and relaxation) তন্ত্রকে সক্রিয় করার জন্য ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেন। এই কৌশলটি প্রাচীন যোগিক অভ্যাস প্রাণায়ামের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর সচেতন নিয়ন্ত্রণ এনে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ডাঃ অ্যান্ড্রু ওয়েইল এই পদ্ধতিটিকে স্নায়ুতন্ত্রের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রশান্তিদায়ক হিসেবে জনপ্রিয় করেছেন। এই কৌশল আয়ত্ত করার জন্য প্রথমে মুখ দিয়ে শ্বাস পুরোপুরি ত্যাগ করতে হয়, এরপর নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিতে হয়, ৭ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হয় এবং সবশেষে মুখ দিয়ে ৮ সেকেন্ড ধরে 'হুশ' শব্দ করে শ্বাস ছাড়তে হয়। এই চক্রটি তিন থেকে চারবার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ রাতের উপবাসের পর সকালের পুষ্টি গ্রহণ সরাসরি দিনের শক্তি এবং মানসিক কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। প্রাতরাশ বাদ দিলে, বিশেষত রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে, মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ থেকে বঞ্চিত হয়, যা মনোযোগ, একাগ্রতা এবং স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের খাবার বাদ দিলে দুপুরে বা রাতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে এবং শারীরিক কার্যকলাপ হ্রাস পায়। সকালের খাবার না খাওয়ার ফলে কর্টিসল, যা স্ট্রেস হরমোন নামে পরিচিত, তার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকতে পারে। কার্যকরী ঔষধ বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘুম ভাঙার একটি প্রধান কারণ হতে পারে, যা শরীর অতিরিক্ত চাপে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
প্রাতরাশে প্রোটিন, ফাইবার এবং হোল ফুড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত নাস্তা করে, তারা পরীক্ষায় গড়ে প্রায় ১০.২৫ পয়েন্ট বেশি নম্বর পেয়েছে, যা জ্ঞানীয় কার্যকারিতার উপর সকালের খাবারের প্রত্যক্ষ প্রভাব প্রমাণ করে। মানসিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং উদ্বেগ কমাতে হলে, ঘুম ভাঙার পর ঘড়ির দিকে তাকানো বা স্ক্রিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক, কারণ নীল আলো মেলাটোনিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। পরিবর্তে, ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো সহজ কৌশলগুলি প্রয়োগ করা উচিত, যা মনকে দুশ্চিন্তা থেকে সরিয়ে এনে শিথিলতার দিকে চালিত করে। সামগ্রিকভাবে, সুশৃঙ্খল নিদ্রা এবং সুষম সকালের পুষ্টি মানসিক স্থিতিশীলতা, উন্নত জ্ঞানীয় ফাংশন এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
NEWS 24/7
HABERTURK.COM
Vertex AI Search
WebMD
Cleveland Clinic
National Eczema Association
YouTube
Doktorclub Sağlık Haberleri
Habertürk
Haber Biber
Cambridge Today
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



