২০২৬ সালে পোষা প্রাণীদের প্রযুক্তি শিল্প বা পেট-টেক এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: মালিকরা এখন তাদের কুকুর বা বিড়ালের গলা থেকে ভারী জিপিএস কলার, ফিটনেস ট্র্যাকার এবং হার্ট রেট সেন্সরগুলো দলে দলে খুলে ফেলছেন। ‘সাইবোর্গ-পোষ্য’ ধারণার বদলে এখন উঠে আসছে ‘নেকড পেট’ (অনাবৃত পোষ্য) ধারণা—যেখানে প্রাণীটি বাড়তি প্লাস্টিক বা তারের বোঝা থেকে মুক্ত থাকে এবং তার চারপাশের স্মার্ট পরিবেশই সব ধরনের পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়।

২০২৬ সালে কলারের সাথে ঝোলানো সেই ভারী জিপিএস ট্র্যাকারকে এখন কোনো ব্যবসায়ীর পকেটে থাকা পেজারের মতোই সেকেলে মনে হয়। আমরা অবশেষে প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করতে শিখেছি যা প্রাণীদের কাজে লাগে, তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় না।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে আমাদের মানসিকতায়: আমরা পোষ্যদের শরীরে সেন্সর লাগানো বন্ধ করে ঘরবাড়িকে ‘দেখতে’ শিখিয়েছি। একটি বিড়ালের ফিটনেস ব্যান্ড পরার কী দরকার, যদি বসার ঘরের স্মার্ট ক্যামেরাটি তার সোফায় লাফ দেওয়ার ধরণ দেখেই হাড়ের জয়েন্টের কোনো সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত করতে পারে? মালিক তার পোষ্যকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস আগেই ‘ভিশন এআই’ অ্যালগরিদমগুলো এখন খুড়িয়ে হাঁটা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারে। এটি শেষ পর্যন্ত আগাম প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার মাধ্যমে পোষা প্রাণীদের গড় আয়ু নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেবে।
বায়োমেট্রিক্সের কল্যাণে এখন কলার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ‘নাকের ছাপ’ এবং মুখের অনন্য জ্যামিতিক গঠন এখন মাইক্রোচিপ বা নামফলকের জায়গা দখল করে নিয়েছে। ২০২৬ সালের উন্নত শহরগুলোতে কোনো কুকুর হারিয়ে গেলে সিকিউরিটি ক্যামেরাগুলো মুহূর্তেই তাকে চিনে ফেলে। সিস্টেমটি কেবল খুঁজে পাওয়া প্রাণীটির ‘চেহারা’ ডেটাবেসের সাথে মিলিয়ে দেখে এবং মালিকের কাছে একটি নোটিফিকেশন পাঠিয়ে দেয়।
এই প্রবণতাটি কেবল মিনিমালিজম বা নূন্যতম ব্যবহারের ফ্যাশন নয়, বরং এটি একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত। প্রাণীটি এখন প্লাস্টিক, তার এবং গলার বাড়তি ওজন থেকে মুক্ত থেকে ‘অনাবৃত’ হওয়ার অধিকার পাচ্ছে। আমরা কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের দিকে এগিয়ে গিয়েছি।
আপনি কি আপনার বন্ধুর নিরাপত্তা অদৃশ্য অ্যালগরিদমের হাতে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, নাকি একটি বাস্তব কলার আসলে কুকুরের প্রয়োজন নয় বরং আপনার ব্যক্তিগত মানসিক শান্তির উৎস?
প্রযুক্তি এখন স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। এখন পোষ্যকে গ্যাজেটের সাথে মানিয়ে নিতে হয় না, বরং পরিবেশই তার স্বাভাবিক আচরণের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়। এটি প্রাণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে এবং তাদের সাথে জীবনযাপনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। তারা ব্যথায় ‘কেঁদে’ ওঠার আগে পর্যন্ত আমরা আর অপেক্ষা করি না—আমরা ডেটা ক্লাউডের মাধ্যমেই তার আভাস অনেক আগেই পেয়ে যাই।




