নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ করে যে, শিশুর জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে বাড়িতে কুকুরের উপস্থিতি একটি সুরক্ষামূলক কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে হাঁপানি (অ্যাজমা) হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি সম্প্রতি আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় রেসপিরেটরি সোসাইটি কংগ্রেসে (European Respiratory Society Congress) উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের বিকাশে পরিবেশের প্রভাব বোঝার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত সিককিডস চিলড্রেনস হসপিটালের (SickKids Children's Hospital) গবেষক দলটি বৃহৎ আকারের কানাডিয়ান কোহর্ট প্রকল্প CHILD-এর অংশ হিসেবে একটি বিশদ বিশ্লেষণ পরিচালনা করেছে। বিজ্ঞানীরা তিন থেকে চার মাস বয়সী এক হাজারেরও বেশি শিশুর বাড়ি থেকে সংগৃহীত ধূলিকণার নমুনা পরীক্ষা করেন। এই নমুনাগুলিতে তিনটি মূল মার্কারের ঘনত্ব নথিভুক্ত করা হয়েছিল: প্রধান কুকুরের অ্যালার্জেন প্রোটিন Can f1, বিড়ালের অ্যালার্জেন Fel d1, এবং ব্যাকটেরিয়া কার্যকলাপের সাথে সম্পর্কিত এন্ডোটক্সিন। পাঁচ বছর পর, যখন শিশুদের বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হয়, তখন তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে হাঁপানির রোগ নির্ণয় এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা পরিমাপ অন্তর্ভুক্ত ছিল, বিশেষত এক সেকেন্ডে জোরপূর্বক নিঃশ্বাস ত্যাগের পরিমাণ (Forced Expiratory Volume in one second) পরীক্ষা করা হয়েছিল।
গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। যেসব শিশুর পরিবেশে কুকুরের প্রোটিন Can f1-এর মাত্রা বেশি পাওয়া গিয়েছিল, তাদের মধ্যে হাঁপানি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪৮% হ্রাস পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই গোষ্ঠীর শিশুদের পরবর্তীকালে ফুসফুসের কার্যকারিতার সূচকগুলিও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যাদের ফুসফুসের রোগের প্রতি বংশগত প্রবণতা ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষামূলক প্রভাবটি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট ছিল। তবে, বিড়ালের অ্যালার্জেন বা ব্যাকটেরিয়াজনিত টক্সিনের সংস্পর্শে একই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া দেখা যায়নি, যা কুকুরের সংস্পর্শের বিশেষত্বকে তুলে ধরে।
বিজ্ঞানীরা এই ধারণা পোষণ করেন যে কুকুরের অ্যালার্জেনের সাথে প্রাথমিক পরিচিতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সঠিকভাবে টিউন করার জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। এই ধরনের সংস্পর্শ শরীরকে অন্যান্য সম্ভাব্য উত্তেজকের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি বিশ্বের সাথে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিথস্ক্রিয়ার গুরুত্বকে জোর দেয়। কারণ, পরিবেশের সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত অবস্থা একটি নবীন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় 'প্রশিক্ষণ' থেকে বঞ্চিত করতে পারে। এই তথ্যগুলি শৈশবের হাঁপানি প্রতিরোধের বিষয়ে আশাবাদ জাগায় এবং এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়াগুলি সম্পূর্ণরূপে উদ্ঘাটনের জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।




