রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর তত্ত্বাবধানে ইন্দোনেশিয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইন্টারেক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল বা স্মার্টবোর্ডগুলির ব্যাপক বিতরণ, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দ্বীপপুঞ্জের সর্বত্র শিক্ষার মান উন্নত করা এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস করা। রাষ্ট্রপতি প্রাবোও বেকাসির একটি পাবলিক জুনিয়র হাই স্কুলে এই 'লার্নিং ডিজিটালাইজেশন ফর স্মার্ট ইন্দোনেশিয়া' কর্মসূচির সূচনা করেন, যেখানে তিনি জোর দিয়েছিলেন যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ব্যতীত সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়।
এই স্মার্টবোর্ডগুলি রিয়েল-টাইম রিমোট লার্নিং এবং ইন্টারেক্টিভ ক্লাসরুম এনগেজমেন্টের সুবিধা প্রদান করে, যা প্রথাগত একমুখী স্মার্ট টিভির তুলনায় অধিক সহযোগিতামূলক শিক্ষণ অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম। এই প্রযুক্তিগত সংহতকরণের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে মানবসম্পদের প্রস্তুতি ও দক্ষতার ওপর, যা সংসদ সদস্যরাও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। ডি.পি.আর. আর.আই.-এর কমিশন এক্স-এর সদস্য মুহাম্মদ হিলমান মুফিদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে শিক্ষকদের এই ডিজিটাল সরঞ্জামগুলি পেশাদারিত্বের সাথে ব্যবহার করা অপরিহার্য, যাতে এগুলির অপব্যবহার না হয়। সরকার শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ওপর অঙ্গীকারবদ্ধ, কারণ প্রযুক্তি কেবল একটি মাধ্যম; এর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদের দক্ষতা ও প্রস্তুতির ওপর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিষয়ক মহাপরিচালক গোগোত সুহারওয়ো দ্বারা পরিচালিত এবং পূর্বে কেমেন্ডিকবুদরিস্তেক নামে পরিচিত ছিল, এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কেমেন্ডিকদ্যাসমেন, যা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার দায়িত্বে রয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করতে অ্যানিমেশন সহ শিক্ষণীয় উপকরণ পর্যালোচনা ও সমন্বয় করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। রাষ্ট্রপতি প্রাবোও নির্দেশ দিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল সামগ্রী, যার মধ্যে অ্যানিমেশনও অন্তর্ভুক্ত, ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে অভিযোজিত করা হোক।
এই কর্মসূচির অধীনে, সরকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রায় ২,৮৮,০০০ স্মার্টবোর্ড স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যে ২,১৫,৫৭২ ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং ১,৭২,৫৫০ ইউনিট স্কুলে পৌঁছে গেছে। পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে, প্রায় এক মিলিয়ন স্মার্টবোর্ড স্থাপনের একটি বৃহত্তর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই বিতরণ কার্যক্রমটি রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা নং ৭/২০২৫ অনুসারে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা স্কুলগুলির পুনরুজ্জীবন, মডেল স্কুলগুলির উন্নয়ন এবং ডিজিটাল শিক্ষার ত্বরণকে বাধ্যতামূলক করে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার সুযোগের সমতা আনার জন্য এই ডিজিটাল রূপান্তর প্রচেষ্টা অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কালিমান্তানের পুলো সেমবাইলান দ্বীপের স্কুলগুলিও স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে এবং আইএফপি গ্রহণ করবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বড় শহরের স্কুলের মতো শিক্ষার সুযোগ পায়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য কেমেন্ডিকদ্যাসমেন বহু-স্তরীয় কর্মসূচি প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার, পিয়ার-টু-পিয়ার মেন্টরিং এবং স্ব-শিক্ষার মডিউল। প্রাথমিক পর্যায়ে, বিতরণটি বানতেন, জাকার্তা এবং পশ্চিম জাভা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে ৩টি প্রত্যন্ত, সীমান্ত এবং অনুন্নত অঞ্চলে পৌঁছাবে।



