শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ: জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ফ্রান্সের কৃষি-শিক্ষামূলক উদ্যোগ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

২০২০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা মারি-ফ্রঁসোয়া ব্যারিয়ার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সমিতি দেঁজাফঁ এ দেঁজার্ব্র (Des Enfants et des Arbres) ফ্রান্স জুড়ে একটি শিক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন করছে, যা শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে। এই উদ্যোগটি ফরাসি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক অনুমোদিত একটি নাগরিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম, যেখানে তরুণ প্রজন্ম কৃষকদের জমিতে তাদের তত্ত্বাবধানে গাছ লাগায়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা, খাদ্য সরবরাহকারীদের সাথে তাদের সংযোগ স্থাপন করা এবং কৃষি-বনায়ন (agroforestry) ও বেড়ার (hedgerows) পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করা। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের তাদের উৎপাদন পদ্ধতিতে প্রকৃতির সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করা হয়, যা পূর্বে নিবিড় চাষাবাদের কারণে বিঘ্নিত হয়েছিল।

এই কর্মসূচির কর্মকৌশল 'হিউমাস – মানবতা – বিনয়' (Humus – Humanity – Humility) স্তম্ভগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা নাগরিক সমাজ এবং কৃষি জগতের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটাতে চায়। সমিতির লক্ষ্য হলো কৃষকদের কৃষি-বাস্তুতান্ত্রিক রূপান্তরে সহায়তা করা, যেখানে গাছকে উৎপাদনের অংশীদার হিসেবে ফিরিয়ে আনার উপর জোর দেওয়া হয়। এই উদ্যোগটি তরুণ প্রজন্মকে তাদের খাদ্য ও অঞ্চল সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, যা ভবিষ্যতের নাগরিকদের পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হতে শেখায়। শীতকাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ, প্রায় ২৮,০০০ শিশু এই কার্যক্রমে অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ফ্রান্স জুড়ে ৫৬৭ জন কৃষককে ২,০০,০০০ গাছ লাগাতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রিভসালতেস (Rivesaltes)-এর এনজো রদ্রিগেজ (Enzo Rodriguez)-এর খামারে জোসেফ-সেবাস্টিয়েন পনস-রিভসালতেস (Joseph-Sébastien Pons-Rivesaltes) স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা একটি বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এই উদ্যোগের আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে নির্বাচিত প্রতিটি কৃষককে প্রায় ২,০০০ ইউরো প্রদান করা হয়। এই অর্থ গাছ কেনা, মালচিং এবং তিন বছরের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে রূপান্তরে সহায়তা করে। দেঁজাফঁ এ দেঁজার্ব্র-এর বৃহত্তর লক্ষ্য হলো প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement)-এর জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক ২৫,০০০ কিলোমিটার বেড়া রোপণ করা। প্যারিস চুক্তি, যা ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রাক-শিল্প স্তরের তুলনায় ২° সেলসিয়াসের নিচে রাখতে চায় এবং ১.৫° সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

যদিও ফ্রান্স ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের জন্য আইনত বাধ্য, যেখানে ২০২২ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৫% নির্গমন হ্রাস করতে হবে, সেখানে এই ধরনের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম কার্বন সিঙ্ক (carbon sink) বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধরনের কৃষি-বনায়ন প্রকল্পগুলি জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি, মাটির ক্ষয় রোধ, জলের গুণমান উন্নত করা এবং কার্বন সঞ্চয় করার মতো বাস্তুতন্ত্রগত সুবিধা প্রদান করে, যা ফ্রান্সের কৃষি ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাগুলি ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই কৃষি ল্যান্ডস্কেপ তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ouillade.eu

  • mesinfos

  • NESTES FM

  • Des Enfants et des Arbres

  • mesinfos

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।