অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন (Austrade) কর্তৃক আয়োজিত একটি নিবিড় তিন দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে ভিয়েতনামের শিক্ষাগত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, যা ২৫শে অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হয়। এই উদ্যোগটি Austrade-এর ল্যান্ডিং প্যাড কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল হানোই এবং হো চি মিন সিটিতে অংশীদারিত্বের সুযোগ অন্বেষণ করা। এই কর্মসূচিতে ১৬টি শীর্ষস্থানীয় অস্ট্রেলিয়ান এডটেক সংস্থা অংশগ্রহণ করে, যা ভিয়েতনামের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটালি রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল ডিজিটাল শিক্ষা রূপান্তর সংক্রান্ত একটি উচ্চ-পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং ভিয়েতনাম হায়ার এডুকেশন নেটওয়ার্ক অফ এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ও বিকে হোল্ডিংস ইউপি-এর সহযোগিতায় আয়োজিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক অধিবেশন। অংশগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ান সংস্থাগুলি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS), মূল্যায়ন সরঞ্জাম, এবং ইংরেজি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) ও জীবন দক্ষতার মতো বিশেষায়িত শিক্ষায় উন্নত সমাধানগুলি প্রদর্শন করে। ক্যানভা এবং মুডল-এর মতো বিশ্বব্যাপী পরিচিত সংস্থাগুলি তাদের পরিমাপযোগ্য ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত শিক্ষামূলক সমাধানগুলি তুলে ধরে।
ভিয়েতনামের জাতীয় ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচি, যা ২০২৫ সালের মধ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, শিক্ষার মান ও সহজলভ্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির একীকরণকে অপরিহার্য মনে করে। দেশটি বর্তমানে একটি ডিজিটাল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সরকার শেখার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (LMS) বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দিয়ে এই রূপান্তরকে চালিত করছে। জোনাথন স, ভিয়েতনামের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশনার, অস্ট্রেলিয়ান এডটেকগুলির সৃজনশীলতা, গুণমান এবং নির্ভরযোগ্যতার জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ভিয়েতনামের চলমান শিক্ষা সংস্কার এবং ডিজিটাল রূপান্তরের প্রতি অঙ্গীকার এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিশেষত, হো চি মিন সিটির মতো অঞ্চলে স্কুলগুলি স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল নাগরিক দক্ষতা ক্লাসরুমের মতো নতুন মডেলগুলিকে উৎসাহিত করছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিকে বুদ্ধিমান ও নিরাপদে ব্যবহার করতে শেখানোর লক্ষ্য রাখে। উভয় পক্ষই একটি প্রযুক্তি-চালিত শিক্ষা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তিগুলি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষণ পদ্ধতির আধুনিকীকরণের মতো ভিয়েতনামের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। ভিয়েতনাম বিশ্বব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থার গ্রাহক থেকে জ্ঞান-ভিত্তিক বাস্তুতন্ত্রের সহ-স্রষ্টায় রূপান্তরিত হওয়ার পথে রয়েছে, যেখানে শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত প্রতিভা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




