আরব ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং গবেষণা নিয়ে গঠিত আন-নাজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ পরিষদের দ্বিতীয় বার্ষিক ফোরামটি গত ২০২৫ সালের ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক দিকগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহামান্য প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সৌদ বিন নায়েফ বিন আব্দুলআজিজ-এর সভাপতিত্বে এই আয়োজনটি আরব অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে দ্রুত করার ওপর বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের জন্য পরিকল্পিত কৌশলগত পরিবর্তনসমূহ। বিশেষ করে, শিক্ষাগত প্রস্তাবনা এবং গবেষণা কার্যক্রমের বৈচিত্র্যায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগটি একটি বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—যা হলো আন-নাজাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং নিরাপত্তা গবেষণার জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় আরব কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল জ্ঞান বিতরণের লক্ষ্য রাখে না, বরং তরুণদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে এবং বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতেও বদ্ধপরিকর।
এই ফোরামে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে একাডেমিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত। বিশেষত, আমেরিকান কাউন্সিল অন কন্টিনিউয়াস এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ACCET)-এর মানগুলি অনুমোদিত হয়েছে। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নত বৈশ্বিক অনুশীলনগুলিকে একীভূত করার আগ্রহকে তুলে ধরে, যা প্রবৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য একটি অনুঘটক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফোরামের সমাপ্তি ঘটে উচ্চতর গবেষণা কর্মসূচির ৪৩ জন অংশগ্রহণকারীকে ডিপ্লোমা প্রদানের মাধ্যমে, যারা ১১টি আরব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই বিশেষজ্ঞরা আইন, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই পদ্ধতিগুলির মূলে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষা, যা অনন্য, অত্যাধুনিক পদ্ধতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং একটি বৈশ্বিক বোঝাপড়া তৈরি করে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা এটিকে একটি "উদ্ভাবনী ও স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয়"-এ রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রাখে, যেখানে পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) একীভূত করা হবে।
উদ্ভাবনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে, আন-নাজাহ বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একজন সহ-সভাপতি পদ তৈরি করেছে, যা এই অঞ্চলে এমন পদক্ষেপ গ্রহণকারী প্রথম প্রতিষ্ঠান। কৌশলগত পরিকল্পনার পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে মানব পুঁজির বিকাশ ঘটাচ্ছে। আন-নাজাহ রিট্রেনিং অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার আইটি, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন এবং এয়ার কন্ডিশনিং-এর মতো চাহিদাযুক্ত ক্ষেত্রগুলিতে ব্যাপক প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) প্রদান করে, যা অংশগ্রহণকারীদের টেকসই কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করে। উপরন্তু, শিক্ষাগত চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বে ভার্চুয়াল শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গাজার শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য TESI প্রকল্পটি শুরু করেছিল, যা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করে।




