সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ঘোষণা দিলেন জেলেনস্কি
লেখক: gaya ❤️ one
২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি দাভোস থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন যে, আগামী ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন।
জেলেনস্কির মতে, এই ধরনের ত্রিপক্ষীয় ফরম্যাটে এটিই হবে প্রথম বৈঠক, যা টানা দুই দিন ধরে চলবে। তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে প্রথমে মার্কিন প্রতিনিধিদল রুশ প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করবেন এবং পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় পক্ষ সেই আলোচনায় যোগ দেবে। চলমান নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সকল পক্ষকে আপস বা সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি এই বৈঠকের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বৈঠকের পরপরই এই ঘোষণাটি এলো। ট্রাম্প এবং জেলেনস্কি উভয়েই তাদের বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন যদি কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে তবে তা হবে একটি "বোকামি"। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনের আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং এখন কেবল একটি মূল অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে।
শান্তি প্রচেষ্টায় নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই প্রক্রিয়ায় "বিরাট অগ্রগতির" কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, উভয় পক্ষ যদি সদিচ্ছা প্রদর্শন করে তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া ইউক্রেনের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ত্বরান্বিত করতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত "শুল্কমুক্ত অঞ্চল" বা "ডিউটি-ফ্রি জোন" তৈরির ধারণার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
যদিও হোয়াইট হাউস বা ক্রেমলিন থেকে এখন পর্যন্ত এই বৈঠকের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবে জেলেনস্কির এই ঘোষণাটি দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে ইউক্রেনের জ্বালানি সংকটের কারণে জেলেনস্কি দাভোস সফর বাতিল করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি দূরশিক্ষণ বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফোরামে অংশ নেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো আয়োজনে সহায়ক হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি সংলাপের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরপেক্ষ অবস্থান এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দাভোসে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে এই ধরনের উদ্যোগ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ক্রমবর্ধমান গতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি গোপন রাখা হলেও ধারণা করা হচ্ছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক বিরোধের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হবে। চলমান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই শান্তি আলোচনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
11 দৃশ্য
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
