ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়ারল্যান্ড সফর সম্পন্ন করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরটি শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ১লা ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এবং শেষ হয় ২রা ডিসেম্বর মঙ্গলবার। প্যারিসে ১লা ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পরপরই কিয়েভের পশ্চিম ইউরোপে সমর্থন সুসংহত করার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে এই ডাবলিনের সফরটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আইরিশ-ইউক্রেনীয় অর্থনৈতিক ফোরামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এই ফোরামের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গভীর করা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আয়ারল্যান্ড কিয়েভকে অবিচল সমর্থন জুগিয়ে আসছে। এই সমর্থনের একটি বড় অংশ হলো মানবিক সহায়তা; ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে আয়ারল্যান্ডে ১২০,০০০-এরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক আশ্রয় লাভ করেছেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে, অর্থাৎ ২রা ডিসেম্বর, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিচেল মার্টিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন। প্রধানমন্ত্রী মার্টিন জানুয়ারি ২০২৫ সালে পুনরায় সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মার্টিন এই সফরকে ‘ইউক্রেন এবং ইউরোপের জন্য এক সংকটময় মুহূর্তে’ ঘটছে বলে বর্ণনা করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেন যে আইরিশ জনগণ ‘যতদিন প্রয়োজন হবে’ ততদিন ইউক্রেনীয়দের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। এই আলোচনায় উপ-প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএনটি উপস্থিত ছিলেন, যা ডাবলিন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আয়ারল্যান্ডের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ক্যাথরিন কনোলি গত বছরের ১১ই নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি, ইউক্রেনীয় নেতা আইরিশ সংসদের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। লেন্সটার হাউসে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি সরাসরি আইনপ্রণেতাদের কাছে ইউক্রেনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয়তাগুলো তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্য আয়ারল্যান্ডে এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর। এই সফরটি কেবল প্রাথমিক মানবিক প্রতিক্রিয়ার পর্যায় থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা। পূর্ববর্তী সময়ে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত থাকায়, বর্তমান চুক্তিগুলো দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগের সম্ভাবনার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে আয়ারল্যান্ড ইউক্রেনের স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।



