ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন, যেখানে তিনি জানান যে তারিখ ও স্থান নির্ধারণের জন্য অংশীদারদের অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই চূড়ান্তকরণ ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের দৃঢ়তা নির্দেশ করে, যদিও স্বাক্ষরের পর চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেস এবং ইউক্রেনীয় সংসদে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি পূর্বে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনার পর দলিলটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। নিরাপত্তা চুক্তির পাশাপাশি, জেলেনস্কি ইউরোপীয় নিশ্চয়তা, 'স্বেচ্ছাসেবক জোট'-এর কার্যক্রম এবং ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রক্রিয়াকে 'অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দেন যে যুদ্ধ সমাপ্তির চুক্তিতে ইইউতে যোগদানের একটি নির্দিষ্ট তারিখ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়। ইউক্রেন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সমস্ত আলোচনা সংক্রান্ত বিষয় উন্মুক্ত করতে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে 'কারিগরি স্তরে' ইইউতে যোগদানের জন্য প্রস্তুত থাকতে চায়।
লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রপতি গিটানাস নাওসেদা ইউক্রেনের ইইউ একীভূতকরণ দ্রুত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের পূর্বে সদস্যপদ লাভ করা। নাওসেদা নিশ্চিত করেন যে লিথুয়ানিয়া ২০২৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের সভাপতিত্বের সময় এই বিষয়ে মনোযোগ দেবে। এই আঞ্চলিক সমর্থন ইউক্রেনের পশ্চিমাভিমুখীতার প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রদর্শন করে, যা ইউরোপের বৃহত্তর কৌশলগত গণনার অংশ।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি ক্যারল নাভরোকি, যিনি জানুয়ারি অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে ভিলনিয়াসে ছিলেন। নাভরোকি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে জার, বলশেভিক বা পুতিনের রাশিয়া যাই হোক না কেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের জন্য হুমকি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেন, পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সংগ্রাম করা অপরিহার্য। পোল্যান্ড এই হুমকির মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে, যা জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা, যেখানে ইউক্রেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া অংশগ্রহণ করেছিল, এই নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণের পথ প্রশস্ত করেছে। মস্কো যেকোনো সমাধানে আঞ্চলিক বিষয়গুলির সমাধানের ওপর জোর দিলেও, কিয়েভ তার আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে আপসহীন বলে মনে করে। এই আলোচনাগুলি যুদ্ধ শেষ করার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং সামরিক স্থিতিশীলতার মতো মূল বিষয়গুলির ওপর আলোকপাত করে, যা দীর্ঘদিনের পরোক্ষ যোগাযোগের পর কাঠামোগত কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করার একটি প্রচেষ্টা।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিফলন। পোল্যান্ড ২০২৬ সালের বাজেটে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করেছে, যা ন্যাটো জোটের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের একটি। এই বিনিয়োগ আধুনিক সেনাবাহিনী গঠন এবং ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলি, যা ভিলনিয়াসে জানুয়ারি অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আলোচিত হয়েছে, তা রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধের ধারাবাহিকতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৮৬৩ সালের এই অভ্যুত্থানটি পোলিশ-লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথের অংশ ছিল, যার মধ্যে বর্তমান ইউক্রেন, পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল, এবং এটি রাশিয়ান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত সংগ্রাম ছিল। এই ঐতিহাসিক চেতনা বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক ঐক্যের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।




