যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ এমআরএনএ (mRNA) ভ্যাকসিন গবেষণার জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করেছে। স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বলেছেন যে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এই ভ্যাকসিনগুলি শ্বাসযন্ত্রের রোগ যেমন কোভিড-১৯ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। এই পদক্ষেপটি জনস্বাস্থ্য নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কেনেডি জুনিয়র, যিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তিনি জানিয়েছেন যে, তার বিভাগ ২২টি এমআরএনএ ভ্যাকসিন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ভ্যাকসিনগুলি ভাইরাস পরিবর্তনের সাথে সাথে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এই তহবিল এখন আরও নিরাপদ এবং বিস্তৃত ভ্যাকসিন প্ল্যাটফর্মের দিকে সরিয়ে নেওয়া হবে যা ভাইরাসের পরিবর্তনের সাথেও কার্যকর থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্নার মতো সংস্থাগুলির উপর প্রভাব পড়তে পারে, যারা কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন কমিশন"-এর অংশ হিসেবে এই নীতি পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী রোগের হার কমানো এবং স্বাস্থ্য নীতি সংস্কার করা। এই কমিশনের অধীনে, স্বাস্থ্য বিভাগ ভ্যাকসিন ইনজুরি ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির (VICP) সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই সংস্কারের ফলে প্রোগ্রামের অখণ্ডতা এবং কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে, বিশেষ করে যদি এতে বৈজ্ঞানিকভাবে অসমর্থিত দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ইমিউনোলজির এমেরিটাস অধ্যাপক চার্লস ব্যাংহাম বলেছেন যে, এমআরএনএ ভ্যাকসিনগুলি কোভিড-১৯ মহামারীর সময় লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচিয়েছে এবং ভাইরাসের পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি আরও বলেন যে, এই প্রযুক্তি কেবল সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধেই নয়, ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের মহামারী মোকাবেলার প্রস্তুতিতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত এমআরএনএ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং গুরুত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই নীতি পরিবর্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতের মহামারী মোকাবেলায় দেশটির সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।



