ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ সালের ২৯শে জানুয়ারি, ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়ার সাথে তীব্র শীতকালীন পরিস্থিতিতে একটি অস্থায়ী 'জ্বালানি যুদ্ধবিরতি' চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো যখন রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই চুক্তির মধ্যস্থতা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে এই চুক্তির ফলে কিয়েভ এবং অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরগুলি চরম শীতল সময়ে রাশিয়ার হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। তবে, জেলেনস্কি সতর্কতার সাথে যোগ করেন যে আগামী কয়েক দিনের বাস্তব পরিস্থিতিই এই ধর্মঘট বিরতি পালিত হচ্ছে কিনা তা প্রমাণ করবে, যা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে অন্তর্নিহিত সংশয় প্রকাশ করে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ এই প্রচেষ্টাকে 'যুদ্ধবিরতির পক্ষে প্রচেষ্টা' হিসেবে স্বাগত জানালেও, রাশিয়ার দ্বারা ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের নিন্দা করেছেন।
এই সমঝোতার পটভূমি ছিল আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা, যেখানে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল একত্রিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২৩ ও ২৪শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই ত্রিমুখী আলোচনাগুলি ছিল যুদ্ধের শুরু থেকে সর্বোচ্চ স্তরের সম্মেলন। ইউক্রেনীয় সূত্র অনুসারে, ওয়াশিংটন এই আলোচনায় জ্বালানি হামলা স্থগিত করার পাশাপাশি কিয়েভের পক্ষ থেকে রাশিয়ার নৌবাহিনীর সম্পদ এবং 'দশ দিনের ফ্লিট' ক্ষেপণাস্ত্র বাহকগুলির উপর আক্রমণ বন্ধ করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে চরম ঠান্ডার কারণে এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভে হামলা না করার অনুরোধ করেছিলেন, এবং পুতিন তাতে সম্মত হয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন।
ইউক্রেনীয় সামরিক মহলের কিছু অংশ এই তথ্যের সাথে সম্পর্কিত ছিল; 'ক্রাকেন' ইউনিটের কমান্ডার কনস্ট্যান্টিন নেমেচেভ পূর্বে জানিয়েছিলেন যে রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে কিয়েভ এবং সমগ্র ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষকরা রাশিয়ার কৌশলগত দিক বিবেচনা করছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত হ্রাস পাচ্ছে, যার প্রমাণ হিসেবে ২৪শে জানুয়ারির পরে উৎপাদিত এক্স-১০১ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে, আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় রাশিয়া তার আঞ্চলিক দাবি বজায় রেখেছিল, যা যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। ইউক্রেনীয় জ্বালানি ব্যবস্থার পরিস্থিতি ছিল নাজুক; ২৪শে জানুয়ারির ব্যাপক হামলার পর কিয়েভের ৬১৩টি আবাসিক ভবন তখনও উত্তাপবিহীন ছিল। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জ্বালানি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (ISW)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই এক সপ্তাহের স্থগিতাদেশ রাশিয়ার জন্য বড় কোনো ছাড় নয়, কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
এই অস্থায়ী স্থিতাবস্থা বজায় থাকে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, বিশেষত যখন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মনে করেন যে রাশিয়া তাদের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হওয়ার কারণে এই বিরতি নিতে বাধ্য হয়েছে। আবুধাবিতে পরবর্তী আলোচনার দিন ধার্য করা হয়েছে রবিবার, যা এই ভঙ্গুর চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




