জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে এক উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইউক্রেন রাশিয়ার কাছ থেকে তার সমস্ত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। এটি তার পূর্বের অবস্থানের একটি স্পষ্ট পরিবর্তন, যেখানে তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ ইউক্রেনকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য রাশিয়ার সাথে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে রাশিয়া বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যা ইউক্রেনকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, "আমি মনে করি ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায়, সমস্ত ইউক্রেনকে তার আসল রূপে ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করতে এবং জিততে সক্ষম।" তিনি আরও যোগ করেন যে, "সময়, ধৈর্য এবং ইউরোপের, বিশেষ করে ন্যাটোর আর্থিক সহায়তায়, যেখান থেকে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেই মূল সীমানা পুনরুদ্ধার করা একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বিকল্প।"
ট্রাম্প রাশিয়ার সামরিক শক্তিকে "কাগজের বাঘ" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে রাশিয়া তিন বছর ধরে "লক্ষ্যহীনভাবে" যুদ্ধ করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পুনরুদ্ধার করার অধিকার এবং সুযোগ রয়েছে এবং শান্তির জন্য শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। জেলেনস্কি বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে পরিস্থিতি বোঝেন এবং এই যুদ্ধের সমস্ত দিক সম্পর্কে অবগত আছেন। আমরা তার এই যুদ্ধ শেষ করার দৃঢ়তাকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করি।"
তবে, প্রাক্তন সিআইএ মস্কো স্টেশন চিফ ড্যান হফম্যান এই ধরনের মৌখিক প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে রাশিয়া কেবল কথায় সাড়া দেয় না এবং রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, "রাশিয়া একটি বাঘ নয়, এটি একটি ভালুকের মতো। কোনো কাগজের ভালুক নেই। রাশিয়া একটি বাস্তব ভালুক।" তিনি মনে করেন যে পুতিন তার কৌশল পরিবর্তন করছেন এবং ইউক্রেনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘটনাবলীর উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করার পাশাপাশি রাশিয়ার কর্মকাণ্ড মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছে। পরিস্থিতি এখনও গতিশীল এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপগুলি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এই নতুন নীতিগত অবস্থান ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যত গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



