মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এই মন্তব্য করেন, যা এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, গত সপ্তাহে প্রায় ৮,০০০ সৈন্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি বেশি। তিনি বলেন, “যখন আপনি আগ্রাসী হন, তখন আপনার ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়।”
এই সরাসরি অভিযোগ মস্কোর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থানের বিপরীতে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন। এর আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সাথে মিলে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল, যেখানে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছিল এবং রাশিয়াকে আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এছাড়াও, ২০২৫ সালের এপ্রিলে, ট্রাম্প একটি অনেক বড় দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার ব্যাপারে তাঁর সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
তবে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কর্তৃক শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর হতে শুরু করে। ট্রাম্প নিজেও পরিস্থিতিকে অপ্রত্যাশিতভাবে চ্যালেঞ্জিং বলে বর্ণনা করেছেন, উল্লেখ করে বলেন, “আমি সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছি, এবং আমি ভেবেছিলাম এটি আমার জন্য সহজ হবে, কিন্তু এটি কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।” এত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, সরাসরি শান্তি আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।
এই ঘটনার সমান্তরালে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন যে ইউরোপীয় ব্যবস্থাগুলি “পর্যাপ্ত কঠোর নয়” এবং আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের নিজস্ব বিধিনিষেধ শক্তিশালীকরণ এবং রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করার উপর নির্ভর করবে। ট্রাম্প আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যদি ইউরোপীয় অংশীদাররা তাদের পদক্ষেপ সমন্বয় করে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরিবর্তন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন, যা চলমান সংঘাতে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পূর্বে ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, এটিকে “খুবই বিপজ্জনক” বলে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের এই পরিবর্তিত নীতি, যা শক্তিশালী নিন্দা এবং অতীতের কৌশলগত অসুবিধার স্বীকারোক্তি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক কূটনীতির গতিশীল এবং জটিল প্রকৃতিকে তুলে ধরে। এই প্রেক্ষাপটে, ইউরোপীয় দেশগুলোর রাশিয়ার উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা এই সংঘাতের সমাধানে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।



