ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গোপনে একটি বিস্তারিত ২৮-দফা পরিকল্পনা তৈরি করছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটানো। এই উদ্যোগটি, যা নভেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশ্যে আসে, গাজায় ট্রাম্পের পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপন করা, যা কেবল সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্ককেও অন্তর্ভুক্ত করে।
এই গোপনীয় নথি তৈরির প্রক্রিয়া চলছে চলমান যুদ্ধ এবং পূর্ববর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পটভূমিতে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট, ২০২৫ সালে আলাস্কায় ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলন। এই পুরো প্রক্রিয়াটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। জানা গেছে, তিনি রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিভ, যিনি রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান এবং ক্রেমলিনের ইউক্রেন সংক্রান্ত কূটনীতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব, তাঁর সাথে ব্যাপক আলোচনা চালিয়েছেন। দিমিত্রিভ মন্তব্য করেছেন যে পূর্ববর্তী সমস্ত চেষ্টার বিপরীতে, এবার 'মনে হচ্ছে রাশিয়ার অবস্থান সত্যিই শোনা যাচ্ছে'।
এই পর্দার আড়ালের কূটনীতির গভীরতা স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায় উইটকফ 'এই সপ্তাহে' (নভেম্বর ১৯, ২০২৫-এর সাপেক্ষে) মিয়ামিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিরাপত্তা উপদেষ্টা রুস্তেম উমেরভের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও, ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে উইটকফ এবং দিমিত্রিভের মধ্যে তিন দিনের গোপন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় অংশীদারদের এই প্রস্তাবনা সম্পর্কে অবহিত করা শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক ঐকমত্য তৈরির প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২৮-দফা পরিকল্পনাটি চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর কাঠামোবদ্ধ: ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান, ইউরোপে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ মার্কিন-রুশ সম্পর্ক নির্ধারণ করা। এই কৌশলটি মস্কোর নিরাপত্তা উদ্বেগগুলিকে বিবেচনায় নিতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে চাইছে, যা আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে সম্মত নীতিমালার উপর ভিত্তি করে তৈরি। দিমিত্রিভ জোর দিয়েছেন যে আলোচনার কাঠামোটি কেবল ইউক্রেন সংকূল সমাধানের বাইরে গিয়ে 'ইউরোপে মজবুত নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার'-এর দিকে মনোনিবেশ করছে।
এই ঘটনাবলী এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ওয়াশিংটন এবং কিয়েভের মধ্যে কিছু মাত্রার উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ, ন্যাটো মিত্রদের অবহিত না করেই মার্কিন সহায়তা স্থগিত হওয়ার পর ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। উপরন্তু, ১৯ নভেম্বর উইটকফের সাথে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির তুরস্কের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হওয়ায় সরাসরি যোগাযোগের সময়সূচিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে, একই সময়ে ওয়াশিংটন ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের সাথে আলোচনার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে কিয়েভে পাঠিয়েছে।
এই উদ্যোগের গোপনীয়তা পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা তুলে ধরে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে একটি সম্ভাব্য মোড় নির্দেশ করে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প ও পুতিনের পরবর্তী বৈঠকের আগে পক্ষগুলো একটি লিখিত দলিল প্রস্তুত করার চেষ্টা করবে, যদিও বুদাপেস্টের শীর্ষ সম্মেলন আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে। এই প্রচেষ্টাগুলি একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আনার জন্য একটি গভীর কূটনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।




