২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর, শনিবার, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আশ-শারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। এই বৈঠকটি ১০ নভেম্বর, সোমবার, হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরটি নজিরবিহীন, কারণ ১৯৪৬ সালে সিরিয়া স্বাধীনতা লাভের পর এটিই কোনো সিরীয় নেতার প্রথম আনুষ্ঠানিক যুক্তরাষ্ট্র সফর। নতুন সিরীয় নেতৃত্বের দৃঢ় পদক্ষেপের ফলস্বরূপ এই ঘটনাটি আমেরিকা-সিরিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এই স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়ার পূর্ববর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, ৭ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আশ-শারার উপর থেকে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। নিখোঁজ আমেরিকানদের খুঁজে বের করা এবং অবশিষ্ট রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার বিষয়ে সিরীয় সরকারের সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তটি একটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছিল এবং নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ জন সদস্য সমর্থন করেছিল। একমাত্র চীন ভোটদানে বিরত ছিল। এর আগে, কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ট্রাম্প এবং আশ-শারার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে রিয়াদে। এরপর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিরীয় নেতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এই ধারাবাহিকতা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
ওয়াশিংটনে আলোচনার মূল বিষয়সূচির মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা, যা কয়েক দশক ধরে দেশটির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছিল। এছাড়াও, আইএসআইএস (ISIS) বিরোধী বৈশ্বিক জোটে সিরিয়ার যোগদান নিয়ে আলোচনা হবে। আশা করা হচ্ছে, এই সফরের সময় সিরিয়ার জোটে যোগদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সিরিয়ার পুনর্গঠন ব্যয়ের পরিমাণ বিশাল—২১৬ বিলিয়ন ডলার, যা আসন্ন পরিবর্তনের বিশালতা তুলে ধরে।
এই কূটনৈতিক নৈকট্যের পটভূমিতে, জানা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র দামেস্কের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এই ঘাঁটির উদ্দেশ্য হবে মানবিক সহায়তা সমন্বয় করা এবং সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল অবশ্য এই ধরনের ঘনিষ্ঠতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আশঙ্কা করছে যে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র নতুন সরকারের হাতে চলে যেতে পারে, যাকে তারা উগ্রপন্থী বলে মনে করে। এই আলোচনার সফলতা নির্ভর করবে নতুন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার জন্য সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির উপর, যেখানে সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি হতে পারে।



