রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জার্মান আন্তর্জাতিক সম্প্রচার মাধ্যম ডয়চে ভেলেকে (DW) আনুষ্ঠানিকভাবে 'অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্থা' হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরে স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর আরোপিত বিধিনিষেধের একটি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ায় ডিডব্লিউ-এর কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ হলো এবং এর সাথে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপটি পূর্ববর্তী বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতা, কারণ ২০২২ সালের মার্চ মাসে ডিডব্লিউ-কে ইতিমধ্যেই 'বিদেশী এজেন্ট' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে দেশটির সাংবিধানিক শৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী বিদেশী সংস্থাগুলোর উপর কঠোরতা আরও বৃদ্ধি পেল। এই বিধিনিষেধের আইনি ভিত্তি হলো ২০১৫ সালের 'অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্থা আইন', যা প্রসিকিউটরদের বিদেশী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা প্রদান করে, যদি সেগুলো রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে বলে বিবেচিত হয়। এই আইনের অধীনে, অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্থার সাথে সহযোগিতা করা, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তাদের সাংবাদিকতামূলক বিষয়বস্তু ভাগ করে নেওয়াও অবৈধ, যার জন্য ভারী জরিমানা এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ড হতে পারে।
রাশিয়ার সংসদীয় কমিশন, যা বিদেশী হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়, সেই কমিশনের আইনপ্রণেতা ভ্যাসিলি পিস্কারিভ এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তি হিসেবে ডিডব্লিউ-কে 'অ্যান্টি-রাশিয়ান প্রচারণার অগ্রভাগে' থাকার অভিযোগ করেছেন। ডয়চে ভেলে, যা ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হলেও সম্পাদকীয়ভাবে স্বাধীন, তারা এই পদক্ষেপকে স্বাধীন গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। ডিডব্লিউ-এর মহাপরিচালক বারবারা ম্যাসিং, যিনি ২০২২ সালের ১ অক্টোবর পিটার লিমবুর্গের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং এই পদে আসীন প্রথম নারী, তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে 'শাসন ব্যবস্থা প্রেস স্বাধীনতার প্রতি কতটা অবজ্ঞা করে এবং স্বাধীন তথ্যের প্রতি কতটা ভীত'।
ম্যাসিং আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে সেন্সরশিপ এবং সরকারী অবরোধ সত্ত্বেও, ডিডব্লিউ-এর রুশ ভাষার পরিষেবা বর্তমানে আগের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ডিডব্লিউ-এর রুশ পরিষেবাটি বর্তমানে প্রায় ১ কোটি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীকে পরিষেবা দেয়, যাদের অধিকাংশই ভিডিও সামগ্রীর মাধ্যমে যুক্ত। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে, ডিডব্লিউ বর্তমানে সেন্সরশিপ এড়াতে টর ব্রাউজার, ভিপিএন অ্যাক্সেস এবং তাদের ডেডিকেটেড DW অ্যাক্সেস অ্যাপের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উপর আরও বেশি নির্ভর করছে।
এই দমন-পীড়নের ঘটনাটি পূর্ববর্তী পদক্ষেপের একটি অংশ; ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের ঠিক আগে, জার্মানি কর্তৃক রাশিয়ার রাষ্ট্র-অর্থায়িত আরটি (RT) চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় মস্কো ডিডব্লিউ-এর মস্কো অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল এবং কর্মীদের ছাড়পত্র বাতিল করেছিল। রাশিয়ার এই পদক্ষেপের ফলে রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি, বেলিংক্যাট, এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের মতো অন্যান্য স্বাধীন সংবাদ সংস্থা ও এনজিওগুলোর সাথে ডিডব্লিউ একই তালিকায় যুক্ত হলো, যা রাশিয়ায় সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে আরও কোণঠাসা করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এই আইনের অধীনে, অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্থার সাথে যুক্ত রাশিয়ান নাগরিকরা, এমনকি যদি তারা রাশিয়ার বাইরেও কাজ করেন, তবে তারা জরিমানা বা ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।




