রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই কারণ এর জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী এখনও তৈরি হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে ইউক্রেনে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। ট্রাম্প এটিকে "খুব ভালো সুযোগ" হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে, পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে এই ধরনের আলোচনার জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা এখনও তৈরি হয়নি। তিনি বলেছেন, "নীতিগতভাবে আমার এতে কোনো আপত্তি নেই, এটি সম্ভব, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত তৈরি করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এখনও সেই শর্তাবলী তৈরি করা থেকে অনেক দূরে।"
পুতিন জুন মাসে বলেছিলেন যে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত, তবে তা কেবল তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত অবসানের আলোচনার "চূড়ান্ত পর্যায়ে"। রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতির কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর এই আসন্ন বৈঠকের খবর আসে। উইটকফ জেলেনস্কির সঙ্গে একটি ত্রিমুখী বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু পুতিন ইউক্রেনীয় নেতার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের মতোই কার্যকর হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্পের পুতিন এবং জেলেনস্কির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার সুযোগ তখনই আসবে যখন পক্ষগুলির অবস্থান, বিশেষ করে কিয়েভ, মস্কো এবং ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থান কাছাকাছি আনা সম্ভব হবে। রুবিও আরও বলেছেন যে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং একটি সহযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পথ অনুসরণ করার পক্ষে সওয়াল করছেন। এই শীর্ষ বৈঠকের ফলাফল কেবল রাশিয়া-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ককেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে না, বরং বৃহত্তর বৈশ্বিক জোটকেও নতুনভাবে সাজাবে।



