উচ্চ-দক্ষ কর্মীদের জন্য H-1B ভিসার নতুন আবেদনের উপর ১০০,০০০ মার্কিন ডলারের একটি ফি আরোপের বিরুদ্ধে উনিশটি রাজ্য নিয়ে গঠিত একটি জোট ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা দায়ের করেছে। এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটস জেলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলাকারীদের যুক্তি হলো, এই নির্দেশিকাটি নির্বাহী ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এটি জারি করা হয়েছে। এই ফি আরোপের ঘোষণাটি জারি হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর, এবং ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকেই এটি কার্যকর হয়, যা নিয়োগকর্তাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক বাধা সৃষ্টি করে।
সাধারণত যে খরচ ৯৬০ থেকে ৭,৫৯৫ ডলারের মধ্যে ছিল, তার তুলনায় নতুন এই ফি প্রায় শতগুণ বেশি, যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে শ্রমের ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে। মামলাকারী জোটের নেতৃত্বে ছিলেন ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রিফিল্ড। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে ওরেগনের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ফি বিপর্যয়কর হবে। উদাহরণস্বরূপ, ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়, যারা H-1B এর অধীনে ৫০ জনেরও বেশি গবেষককে স্পনসর করে, এবং ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি, যারা ১৫০ জনেরও বেশি এমন কর্মীকে স্পনসর করে, তাদের উপর এর প্রভাব মারাত্মক হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা এই ঘোষণাকে 'গভীর সংকটের হুমকি সৃষ্টিকারী একটি ধারণা' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত মেটা, গুগল এবং অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা H-1B কর্মসূচির প্রধান ব্যবহারকারী।
মামলাকারীরা জোর দিয়ে বলছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৪৬ সালের প্রশাসনিক পদ্ধতি আইন (APA)-এর অধীনে প্রয়োজনীয় নোটিশ এবং মন্তব্য প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করেছে, যা তাদের মামলার একটি প্রধান ভিত্তি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ এই নীতিকে সমর্থন করে যুক্তি দিচ্ছে যে অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন (INA) দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা অনুসারে, প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই নীতি আদালতের পর্যালোচনা থেকে সুরক্ষিত। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স H-1B ব্যবস্থাকে সমালোচনা করে বলেছেন যে এটি আমেরিকান নাগরিকদের ক্ষতি করে সস্তা শ্রম আমদানি করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নতুন নিয়মটি বর্তমান ভিসা ধারকদের জন্য প্রযোজ্য নয় যারা নবায়নের জন্য আবেদন করছেন, অথবা যারা ২০২৫ সালের ২১শে সেপ্টেম্বরের আগে আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে আশা করা হচ্ছে যে ২০২৬ সালের শুরুতে H-1B ভিসার লটারির ক্ষেত্রে এই ফি কার্যকর হবে।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি, ২০২৫ সালের শেষ দিকে অভিবাসন ব্যবস্থার চারপাশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে H-1B কর্মসূচি উচ্চ-দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি মাধ্যম ছিল—যেমন ২০২৩ সালে ইস্যু করা ৩,৮৬,০০০ ভিসার মধ্যে ৭৩% পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা—সমালোচকদের মতে নতুন নিয়মাবলী এর মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করছে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডিজিটাল স্ক্রিনিংয়ের জন্য বর্ধিত প্রয়োজনীয়তা আরোপ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই আইনি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক চাপ প্রমাণ করে যে H-1B প্রোগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গভীর মতভেদ বিদ্যমান। একদিকে যেমন দক্ষ প্রতিভা আকর্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার সুরক্ষার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এই ফেডারেল মামলাটি সম্ভবত আগামী মাসগুলোতে অভিবাসন নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




