প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলার জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তি প্রণয়নের আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ১৪ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সর্বশেষ খসড়া পাঠ্যটিকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পানামা, কেনিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশগুলো খসড়াটির সমালোচনা করেছে কারণ এতে প্লাস্টিক উৎপাদন সীমিতকরণ এবং প্লাস্টিক পণ্যে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যাপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পানামার আলোচকরা এটিকে "উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে আত্মসমর্পণ" বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে মনে করেছে কারণ এতে "স্পষ্ট, শক্তিশালী এবং কার্যকর ব্যবস্থা" নেই। কেনিয়াও "কোনো বৈশ্বিক বাধ্যতামূলক বাধ্যবাধকতা" না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
চুক্তির পরিধি নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে একটি বড় বিভাজন দেখা দিয়েছে। সৌদি আরব, রাশিয়া এবং ইরানের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো, যারা লাইক-মাইন্ডেড গ্রুপ নামে পরিচিত, তারা উৎপাদন সীমা নির্ধারণের পরিবর্তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর বেশি জোর দিচ্ছে। এই অবস্থানটি পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেশ এবং প্লাস্টিক উৎপাদনের সাথে অর্থনৈতিকভাবে জড়িত দেশগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতকে প্রতিফলিত করে। বর্তমানে বিশ্বে প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন টনের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে তা ৭০% বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্য ল্যানসেট কাউন্টডাউন রিপোর্ট অনুসারে, প্লাস্টিক উৎপাদন এবং দূষণ বার্ষিক প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ব্যয়ের জন্য দায়ী এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক প্লাস্টিক উৎপাদন প্রায় ৭০% বৃদ্ধি পেতে পারে। এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্লাস্টিক উৎপাদন থেকে নির্গত PM2.5 প্রায় ১৫৮,০০০ অকাল মৃত্যুর সাথে যুক্ত।



