ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে ভারতের ভূমিকা এবং দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য আলোচনা নিয়েও কথা বলেছেন। এই কূটনৈতিক আদানপ্রদান এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন নতুন দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর জন্মদিনে ট্রাম্পের ফোন কলের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইউক্রেন সংকট নিরসনে ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প তাঁর এক্স (পূর্বের টুইটার) পোস্টে এই কথোপকথনকে 'অসাধারণ' বলে অভিহিত করেছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে ভারতের সহযোগিতার জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে মোদি একটি "চমৎকার কাজ" করছেন।
এই আলোচনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যা দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। এই শুল্ক আরোপের প্রধান কারণ ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন যে ভারতের এই পদক্ষেপ মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে অর্থায়ন করছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই উভয় পক্ষ সম্প্রতি তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক সম্প্রতি কিছুটা শীতল হয়ে গেলেও, গত সপ্তাহে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাকে উভয় পক্ষই "ইতিবাচক" বলে বর্ণনা করেছে। ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দুই দেশ একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এই আলোচনার ফলে পূর্বনির্ধারিত ষষ্ঠ দফা আলোচনা, যা আগস্ট মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, তা পুনরায় শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
ভারত ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মোদির মস্কো সফরকে শান্তি প্রচেষ্টার জন্য একটি "বড় হতাশা" হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, তবুও ভারত কূটনৈতিকভাবে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। ভারত জাতিসংঘের বেশিরভাগ প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থেকেছে যা রাশিয়ার নিন্দা করে এবং শান্তি ও কূটনীতির উপর জোর দিয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় এর ভূমিকার প্রতিফলন ঘটায়। এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্ক কেবল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও জড়িত। ট্রাম্পের জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং ইউক্রেন শান্তি উদ্যোগে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা, বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে। যদিও শুল্ক সংক্রান্ত মতপার্থক্য এখনও বিদ্যমান, উভয় পক্ষের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি স্থিতিশীল এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী সম্পর্ক স্থাপনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।



