ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে সংঘটিত এক মর্মান্তিক ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে দেশের অভিবাসন নীতিতে জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। ঘটনাটি ঘটেছিল বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে। রাজধানী শহরে ‘অপরাধজনিত জরুরি অবস্থা’ মোকাবিলার মিশনে নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের উপর হঠাৎ আক্রমণ চালানো হয় ফাররাগুট স্কোয়ার এলাকায়।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘অশুভ কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, ২০ বছর বয়সী স্পেশালিস্ট সারা বেকস্ট্রম বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৪ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট অ্যান্ড্রু উলফ তখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত, আফগানিস্তানের ২৯ বছর বয়সী নাগরিক রাহমানুল্লাহ লাকানওয়াল, আত্মসমর্পণের সময় আহত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লাকানওয়াল জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে সেপ্টেম্বর ২০২১-এ ‘অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী আফগানদের সরিয়ে আনা। তবে, তার আশ্রয় প্রার্থনা এপ্রিল ২০২৫-এ ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। জানা গেছে, লাকানওয়াল পূর্বে সিআইএ প্রশিক্ষিত আফগান এলিট ইউনিটে কাজ করতেন।
এই ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘পূর্ববর্তী দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিবাসন নীতির সরাসরি ফল’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে তিনি তথাকথিত ‘তৃতীয় সারির দেশগুলো’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করার এবং ‘বাইডেনের অবৈধ প্রবেশ’ বন্ধ করার ঘোষণা দেন। এছাড়াও, প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর ডিরেক্টর জোসেফ এডলো ‘উদ্বেগজনক ১৯টি দেশ’ থেকে আসা বিদেশিদের ইস্যু করা সমস্ত গ্রিন কার্ডের ‘পূর্ণাঙ্গ, পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনরায় যাচাই’ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউএসসিআইএস কর্তৃক পরবর্তীতে স্পষ্ট করা হয় যে এই তালিকায় আফগানিস্তান, ইরান, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা, কিউবা এবং তুর্কমেনিস্তানের পাশাপাশি আরও কিছু রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ১৯টি দেশ পূর্বে প্রেসিডেন্টের জুন মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি জেনিন পিরো জানিয়েছেন যে লাকানওয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্ভবত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ইউএসসিআইএস আফগানিস্তানের নাগরিকদের কাছ থেকে আসা সমস্ত অভিবাসন আবেদন নিরাপত্তা প্রোটোকল হালনাগাদ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। জাতীয় নিরাপত্তা কর্মীর জীবনহানি একটি গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রশাসনের মধ্যে কঠোর নীতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে, অভিবাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো এখন আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



