টো লাম ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত, ক্ষমতার কেন্দ্রে শীর্ষ পদগুলোর একীভূতকরণ

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

ভিয়েতনামে আনুষ্ঠানিকভাবে "দুই আসন" বা দ্বৈত ক্ষমতার এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে টো লামকে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন করার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। উল্লেখযোগ্য যে, গত জানুয়ারি মাস থেকেই তিনি ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির (CPV) সাধারণ সম্পাদকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেশটির শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী কেন্দ্রীকরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

হ্যানয়ের জন্য এটি কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক রদবদল নয়, বরং বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। বর্তমান বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনাম একক নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কি দ্রুত নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে? এ প্রশ্নের উত্তর ভিয়েতনামের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই স্পষ্ট।

৪৯৫টি ভোটের মধ্যে ৪৯৫টিই তাঁর পক্ষে পড়া একটি বিশেষ সংকেত প্রদান করে। এটি দেশটির নীতি-নির্ধারক ও অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে বিরাজমান সর্বোচ্চ সংহতি এবং ঐক্যবদ্ধ সংকল্পেরই প্রতিফলন। এই নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতির মূল ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করছে গত বছর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া "অর্ডারিং রেভোলিউশন" বা সুশৃঙ্খল বিপ্লব।

দেশটিকে একটি যন্ত্রণাদায়ক অথচ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অধীনে ভিয়েতনামের ৬৩টি প্রদেশকে একীভূত করে ৩৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে জেলা পর্যায়ের সম্পূর্ণ শাসনতান্ত্রিক স্তর বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা সরকারের বিশাল পরিমাণ সম্পদ ও জনশক্তিকে সাশ্রয় করতে সাহায্য করেছে।

আমলাতান্ত্রিক এই সংস্কারের ফলে দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হালকা এবং গতিশীল। এখন এই কাঠামোর কার্যকারিতা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রমাণ করার সময় এসেছে। ভিয়েতনামের অর্থনীতি কি বছরে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে? টো লাম ২০২৬ সালের জন্য ঠিক এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রাই নির্ধারণ করেছেন।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য এই সংখ্যাটি অবাস্তব মনে হলেও, ভিয়েতনামের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিপথ ভিন্ন কথা বলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০টি বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়াই এখন হ্যানয়ের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে হ্যানয়কে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে হবে।

এর জন্য কেবল অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাই যথেষ্ট নয়, বরং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে হ্যানয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত ও কাজাখস্তানের নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিনন্দন বার্তা এটিই নিশ্চিত করে যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভিয়েতনাম একটি "নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সেতু" হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছে।

একটি কঠোর দলীয় কাঠামোর সাথে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক নীতির এই সমন্বয় যদি সফল হয়, তবে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠনে ভিয়েতনাম সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। দ্রুত গতির এই শাসন ব্যবস্থার সাথে ভিয়েতনামী ব্যবসায়ীরা নিজেদের কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই হবে প্রেসিডেন্ট টো লামের মেয়াদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

1 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • thesun.my

  • The Japan Times

  • VietNamNet

  • Vietnam Plus

  • Vietcetera

  • Radio Free Asia

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।