মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী মোতায়েন ও কূটনৈতিক তৎপরতা: ইরান পরিস্থিতি

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী মোতায়েন ও কূটনৈতিক তৎপরতা: ইরান পরিস্থিতি-1

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর, পেন্টাগন, ইরান-মার্কিন উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর অপারেশনাল এলাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। এই কৌশলগত সামরিক পুনর্বিন্যাসটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে CENTCOM ইরান সহ ২১টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এই রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের যাত্রাপথে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (CVN-72) বিমানবাহী রণতরীটি এই স্ট্রাইক গ্রুপের কেন্দ্রবিন্দু, যা ক্যারিয়ার এয়ার উইং নাইন (CVW-9) দ্বারা সমর্থিত। এই উইংটিতে এফ/এ-১৮ই/এফ সুপার হর্নেট, ইএ-১৮জি গ্রলার, ই-২ডি অ্যাডভান্সড হকআই এবং এমএইচ-৬০আর/এস সি হক-এর মতো অত্যাধুনিক বিমান অন্তর্ভুক্ত। এই সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলি থেকে কিছু কর্মীকে সতর্কতামূলকভাবে প্রত্যাহার করেছে। কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অপারেশনাল সদর দপ্তর এবং প্রায় ১০,০০০ সৈন্যের আবাসস্থল, সেখান থেকেও কিছু কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই প্রত্যাহারকে একটি 'পোস্টচার পরিবর্তন' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, কোনো বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ নয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় করা হয়েছে।

সামরিক তৎপরতার পটভূমিতে কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো বন্ধ না হলে তিনি 'খুব শক্তিশালী পদক্ষেপ' নেবেন। তবে, পরবর্তীতে তিনি জানান যে, তিনি 'খুব গুরুত্বপূর্ণ উৎস' থেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই, যদিও তিনি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেননি। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাকচি জোর দিয়ে বলেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং 'ঝুলিতে তোলা একেবারেই প্রশ্নাতীত'। আরাকচি আরও দাবি করেন যে, বিক্ষোভের সহিংসতা আসলে 'সন্ত্রাসবাদী উপাদান'-এর অনুপ্রবেশের ফল, যা আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ উস্কে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের একটি 'ষড়যন্ত্র' ছিল।

আন্তর্জাতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৩, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে। সোমালিয়ার স্থায়ী মিশন নিশ্চিত করেছে যে, বৈঠকটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় (জিএমটি ২০:০০) অনুষ্ঠিত হবে। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, যা ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষত মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্ভূত, তা এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন স্ট্রাইক গ্রুপের মতো একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী গোষ্ঠীর আগমন একটি সুস্পষ্ট প্রতিরোধমূলক বার্তা বহন করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ইরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আশ্বাস পরিস্থিতিকে কিছুটা শান্ত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অনুভূত ঝুঁকি নির্দেশ করে।

49 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • REPUBLIKA

  • ANI News

  • DAWN.COM

  • The Guardian

  • Amu TV

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।