
শক্তি
শেয়ার করুন
লেখক: Svetlana Velhush

শক্তি
২০২৬ সালের মার্চ মাসে পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এমন এক চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়ে, যাকে অনেকে ‘চাকা আবিষ্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করছেন। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সাস সেন্টার ফর সুপারকন্ডাক্টিভিটি (TcSUH)-এর একদল গবেষক সাধারণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে অতিপরিবাহী পদার্থের তাপমাত্রার ক্ষেত্রে এক নতুন বিশ্বরেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেছেন। এই আবিষ্কারটি আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাবলেট
বিজ্ঞানীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে দেখা গেছে যে, তারা স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ১৫১ কেলভিন (যা প্রায় মাইনাস ১২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান) তাপমাত্রায় অতিপরিবাহিতা বা সুপারকন্ডাক্টিভিটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি একটি বিশাল অগ্রগতি, কারণ এর আগে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১৩৩ কেলভিনের রেকর্ডটি অজেয় ছিল। এই নতুন রেকর্ডটি প্রমাণ করে যে, আমরা এখন কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো শক্তির অপচয় ছাড়াই বিদ্যুৎ পরিবহনের লক্ষ্যের অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
এই অসাধ্য সাধনে গবেষকরা ‘প্রেশার কোয়েনচিং’ (Pressure Quenching) নামক একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট উপাদানটিকে প্রথমে অত্যন্ত উচ্চ চাপে সংকুচিত করা হয় এবং এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সেই চাপ কমিয়ে ফেলা হয়। এই বিশেষ কৌশলটি উপাদানটিকে সাধারণ বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশেও তার অনন্য সুপারকন্ডাক্টিং বৈশিষ্ট্যগুলো স্থায়ীভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হতো।
এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি অতিপরিবাহিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অর্জনের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৩৩ কেলভিন, যা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত ছিল। এখন বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে এবং শক্তির অপচয় রোধ করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয় করা যাবে।
আগে অতিপরিবাহী পদার্থগুলোকে কার্যকর রাখতে তরল নাইট্রোজেন বা হিলিয়াম দিয়ে শীতল করার প্রয়োজন হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নতুন উদ্ভাবিত উপাদানগুলো এই প্রযুক্তিকে অনেক বেশি সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করে তুলেছে। এর ফলে শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই প্রযুক্তির সুফল পৌঁছানো এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার এক বিশাল আশীর্বাদ হয়ে আসবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ শক্তি অপচয় হয়, যা এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি ডলার সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশের ওপর কার্বন নিঃসরণের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব হবে বৈপ্লবিক। চৌম্বকীয় শক্তির সাহায্যে চালিত ম্যাগলেভ (Maglev) ট্রেনগুলোর পরিচালনা ব্যয় অনেক কমে আসবে। এই ট্রেনগুলো তখন বিমানের মতো দ্রুত গতিতে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করতে পারবে, যা যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে এবং মানুষের সময় বাঁচাবে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। বর্তমানে ব্যবহৃত এমআরআই (MRI) মেশিনগুলো আকারে অনেক ছোট, শব্দহীন এবং বর্তমানের তুলনায় অনেক সস্তা হয়ে উঠবে। যেহেতু এই মেশিনগুলোর জন্য আর বিশাল এবং ব্যয়বহুল শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না, তাই সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য হবে।
আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট যেমন স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপগুলোর কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সার্কিটে তাপজনিত শক্তির অপচয় না থাকায় এই ডিভাইসগুলো আর উত্তপ্ত হবে না। এর ফলে ব্যাটারির চার্জ বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় ধরে থাকবে, যা প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে এবং ডিভাইসগুলোর স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করবে।
UC Davis News (Разбор технологии «закалки давлением»)