ফেলো সিই লঞ্চ: ওয়েব ব্রাউজিং-এ যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে স্পেশিয়াল এআই ইন্টারফেস
সম্পাদনা করেছেন: Veronika Radoslavskaya
প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে, ফেলো (Fellou) তাদের কনসেপ্ট এডিশন (CE) লঞ্চ করেছে। এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি স্পেশিয়াল এআই ইন্টারফেস এবং জেড-অ্যাক্সিস (Z-axis) প্রযুক্তির মাধ্যমে ওয়েব ব্রাউজিং-এর ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এটি ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল ওয়ার্কস্পেসের সাথে মিথস্ক্রিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাথে যোগাযোগের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফেলো, যা এজেন্টিক এআই ব্রাউজার (agentic AI browser) প্রযুক্তির পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত, তাদের নতুন সিই এডিশনে ইউজার ইন্টারফেসে একটি তৃতীয় মাত্রা, অর্থাৎ জেড-অ্যাক্সিস যুক্ত করেছে। এর ফলে ব্রাউজারটি একটি ত্রিমাত্রিক (3D) স্পেশিয়াল ওয়ার্কস্পেসে রূপান্তরিত হয়েছে, যা ডিজিটাল কাজ পরিচালনা এবং এআই-এর সাথে গভীর সংযোগ স্থাপনের এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের জন্য 'ফেলো হোম' (Fellou Home) নামক একটি কেন্দ্রীয় স্পেশিয়াল হাব (spatial hub) নিয়ে এসেছে। এখানে বুকমার্ক, ব্রাউজিং হিস্টোরি, লোকাল ফাইল এবং টাস্ক লিস্ট একটি ত্রিমাত্রিক ইন্টারফেসে সুসংহতভাবে সাজানো থাকে, যা ট্যাবগুলির মধ্যে অহেতুক ঘোরাঘুরি কমিয়ে ব্যবহারকারীর জ্ঞানীয় লোড (cognitive load) হ্রাস করে।
ডাইনামিক মাল্টিটাস্কিং (Dynamic Multitasking) এবং প্যারালাল মাল্টি-এজেন্ট অপারেশনস (Parallel Multi-Agent Operations) এর মতো বৈশিষ্ট্যগুলি ফেলো সিই-কে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। ডাইনামিক মাল্টিটাস্কিং এআই কার্যক্রমের জন্য পৃথক স্পেশিয়াল জোন তৈরি করে, যেখানে একাধিক এজেন্ট একই সময়ে বিভিন্ন স্পেশিয়াল লেয়ারে কাজ করতে পারে। এটি উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলি দূর করতে এবং জটিল কর্মপ্রবাহকে (workflows) সহজতর করতে সহায়ক হবে।
ফেলো-এর সিইও ডমিনিক জিয়ে (Dominic Xie), যিনি ২০২১ সালে ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া (Forbes 30 Under 30 Asia) সম্মাননা লাভ করেন, তিনি বলেন, "ফেলো সিই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য 'জার্ভিস ফর এভরিওয়ান'-এর মতো একটি ব্যক্তিগত এআই তৈরি করতে চাইছি। এটি এমন একটি ব্যক্তিগত এআই যা সমস্ত ডিভাইসে নির্বিঘ্নে কাজ করবে এবং মানুষ ও মেশিনের মধ্যে গভীর সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা প্রথমবারের মতো ইউজার ইন্টারফেসে জেড-অ্যাক্সিস যুক্ত করছি, যা আপনার স্ক্রিনে একটি বাস্তব গভীরতা তৈরি করছে। কল্পনা করুন, আপনার ডেস্কটপ আর সমতল নয়; এটি এখন একটি স্পেশিয়াল পরিবেশ যেখানে আপনি এবং আপনার এআই যেকোনো কাজে পাশাপাশি কাজ করতে পারেন।"
ফেলো এপ্রিল ২০২৫ সালে তাদের যাত্রা শুরু করার পর থেকে এক মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী আকর্ষণ করেছে। তারা এজেন্টিক কম্পিউটিং (agentic computing) এর উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত এবং এজেন্ট অর্থনীতি (agent economy) গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করছে। এটি ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের স্বায়ত্তশাসিত উৎপাদনশীলতার (autonomous productivity) ভবিষ্যৎ সহ-সৃষ্টি করতে সক্ষম করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের স্পেশিয়াল এআই ইন্টারফেস এবং এজেন্টিক ব্রাউজারগুলির উত্থান ওয়েব ব্রাউজিং-এর ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এটি কেবল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকেই উন্নত করবে না, বরং ডিজিটাল কাজ সম্পাদনের পদ্ধতিতে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে। ফেলো সিই-এর এই উদ্ভাবনটি প্রযুক্তি বিশ্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়াকে আরও উন্নত ও সহজলভ্য করে তুলবে।
উৎসসমূহ
FinanzNachrichten.de
Fellou CE Launches: World's First Spatial Agentic Browser
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
