Bruce Springsteen - মিনিয়াপোলিসের রাস্তাগুলো (আধिकारिक অডিও)
ব্রুস স্প্রিংস্টিন: 'স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস'—রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক সুরের প্রতিবাদ
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
কিংবদন্তি রক তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি তার নতুন প্রতিবাদী গান ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ (Streets of Minneapolis) প্রকাশ করেছেন। মিনিয়াপোলিস শহরে ফেডারেল ইমিগ্রেশন সার্ভিসের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই গানটি তৈরি করা হয়েছে। ৭৬ বছর বয়সী এই শিল্পী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, মিনিয়াপোলিস শহরে যে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদেই তিনি এই সুর বেঁধেছেন। গানটি মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যাপক জনমত তৈরি করেছে এবং প্রকাশের দিনেই ইউটিউব ট্রেন্ডিং চার্টের শীর্ষে উঠে এসেছে।
এই গানের লিরিক্সে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে প্রাণ হারানো দুই বাসিন্দার স্মৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা হলেন রেনে গুড, যিনি ৭ জানুয়ারি মারা যান এবং অ্যালেক্স প্রিটি, একজন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের নার্স, যাকে ২৪ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয়। স্প্রিংস্টিন তার গানের চরণে সরাসরি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এবং এই অভিযানের সাথে জড়িত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মিনিয়াপোলিসে ‘আইন প্রয়োগের’ নামে আসা ডিএইচএস-এর বাহিনীকে ‘রাজা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
রেনে গুড ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা। গত ৭ জানুয়ারি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এর একজন কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন যখন তিনি সংস্থাটির বিরুদ্ধে চলা একটি বিক্ষোভস্থল থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মিনিয়াপোলিসের ভেটেরান্স হাসপাতালের ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রিটি ২৪ জানুয়ারি তার বাড়ি থেকে মাত্র দুই মাইলেরও কম দূরত্বে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের সাথে এক সংঘর্ষে নিহত হন। প্রিটির পরিবার এই ঘটনার সরকারি ব্যাখ্যাকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য যে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে ১৩ জানুয়ারি ফেডারেল এজেন্টদের সাথে প্রিটির একটি ধস্তাধস্তির ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তাকে কর্মকর্তাদের ওপর চিৎকার করতে এবং তাদের গাড়িতে লাথি মারতে দেখা যায়; তখন এজেন্টরা তাকে মাটিতে ফেলে দিলেও গ্রেপ্তার করেনি।
গানটির সংগীতায়োজন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদী গানের আদলে করা হয়েছে। এটি একটি শান্ত অ্যাকোস্টিক গিটারের সুর দিয়ে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড সাউন্ডে রূপ নেয়, যেখানে হারমোনিকা এবং ‘আইস আউট!’ (ICE Out!) এর মতো স্লোগান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ গানটি ইউটিউবে প্রকাশের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ৪০,০০০-এরও বেশি ভিউ সংগ্রহ করেছে। মিনেসোটার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতি এই গুণী শিল্পীর এমন দ্রুত ও জোরালো প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
এই গানটি মিনিয়াপোলিসের ঘটনার প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ। এই ট্র্যাজেডির প্রতিক্রিয়ায় প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী টম মোরেলো ৩০ জানুয়ারি ‘ফার্স্ট অ্যাভিনিউ’ ক্লাবে ‘কনসার্ট অফ সলিডারিটি অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স ইন ডিফেন্স অফ মিনেসোটা’ নামক একটি চ্যারিটি কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আয়োজন থেকে প্রাপ্ত অর্থ গুড এবং প্রিটির পরিবারের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। মোরেলোর পাশাপাশি এই কনসার্টে রাইজ অ্যাগেইনস্ট, আল ডি মিওলা এবং আইক রিলির মতো শিল্পীদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিক ডিফেন্ডার্স’ (NAPD) ফেডারেল এজেন্টদের এই প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গানটির শিরোনাম স্প্রিংস্টিনের ১৯৯৩ সালের অস্কারজয়ী কালজয়ী গান ‘স্ট্রিটস অফ ফিলাডেলফিয়া’র কথা মনে করিয়ে দেয়। এর আগেও স্প্রিংস্টিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘গেস্টাপো কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করে প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আমেরিকার মৌলিক নীতিগুলো ‘এখনকার মতো আগে কখনো এত বড় হুমকির মুখে পড়েনি’। তার এই নতুন গানটি কেবল একটি সুর নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
উৎসসমূহ
Süddeutsche Zeitung
RP Online
T-online.de
Euronews English
mz.de
Neue Zürcher Zeitung
Saarbrücker Zeitung
CBC News
People
MEAWW News
Forbes
TheWrap
The Standard
CBS News
The Guardian
The Washington Post
NZ Herald
Star Tribune
Time Magazine
Wikipedia
TheWrap
Star Tribune
Forbes
People.com
Time Magazine
CBC News
Wikipedia
Noise11.com
People.com
Wikipedia
The Guardian
wfaa.com
People
Reuters
Star Tribune
Forbes
Columbia Journalism Review
Wikipedia
People.com
Time Magazine
The Guardian
Britannica
People
Killing of Alex Pretti - Wikipedia
The Guardian
Reuters
Star Tribune
Time Magazine
CBC News
The Guardian
Star Tribune
PBS



