NetEase Cloud Music অফিসিয়াল চ্যানেল
শব্দের পথ: UMG × NetEase এবং ডাউনটাউন কেস — পরিকাঠামো হিসেবে সঙ্গীত
লেখক: Inna Horoshkina One
ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ (UMG) সম্প্রতি চীনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটইজ ক্লাউড মিউজিক (NetEase Cloud Music)-এর সাথে একটি কৌশলগত লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সঙ্গীত শিল্পের জন্য এটি কেবল সাধারণ কোনো ডিস্ট্রিবিউশন বা বিতরণের বিষয় নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী বাজার বিভাজনের পর চীনের কোটি কোটি শ্রোতার কাছে পুনরায় পৌঁছানোর একটি বড় সুযোগ। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতের একটি বিশাল ক্যাটালগ এখন চীনের বিশাল শ্রোতামণ্ডলীর জন্য উন্মুক্ত হলো।
এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং ব্যবস্থার একটি নতুন রূপরেখা তুলে ধরে। মিউজিক ক্যাটালগগুলো এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ নয়, বরং সেগুলো বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। শিল্পীদের জন্য এটি তাদের বৈশ্বিক পরিচিতি বৃদ্ধির একটি অনন্য মাধ্যম, আর এশীয় বাজারের জন্য এটি শক্তির এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে যা আগামী দিনে স্ট্রিমিংয়ের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
যখন সঙ্গীত কোনো ভৌগোলিক সীমানা ছাড়াই অবাধে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ পায়, তখন তা কেবল স্থানীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি তার আদি ও অকৃত্রিম রূপে ফিরে যায় এবং একটি সর্বজনীন ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই ধরনের চুক্তির ফলে সঙ্গীতের পরিধি আরও বিস্তৃত হয় এবং এটি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হওয়ার সুযোগ পায়, যা বিশ্বব্যাপী সুরের ঐকতানকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়, ইউরোপীয় কমিশন ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ কর্তৃক ডাউনটাউন মিউজিক হোল্ডিংস (Downtown Music Holdings) ক্রয়ের প্রস্তাবটি অনুমোদনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এই আলোচিত চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই অনুমোদনের ক্ষেত্রে রয়্যালটি এবং ডেটা পরিষেবার ক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে যাতে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি না হয়।
এই চুক্তিটি মূলত ভবিষ্যৎ সঙ্গীত শিল্পের পরিকাঠামো বা আর্কিটেকচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। ডেটার মালিকানা কার হাতে থাকবে, রয়্যালটি বা শিল্পীদের প্রাপ্য কীভাবে গণনা করা হবে এবং প্রসারের সাথে মনোপলির সীমারেখা কোথায়—এই বিষয়গুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত কেবল ইউরোপের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি নতুন মানদণ্ড বা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এই পরিকাঠামো যখন সঠিক নিয়মের আওতায় আসে, তখন সেখানে স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। যখন রয়্যালটি এবং ডেটা ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়গুলো স্বচ্ছ হয়, তখন প্রতিটি সুর বা শব্দ ন্যায্যভাবে মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ পায়। এটি মূলত একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সঙ্গীত পরিবেশ তৈরির পথে বড় পদক্ষেপ, যেখানে ছোট-বড় সব শিল্পীই তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন পাওয়ার আশা করতে পারেন।
২০২৬ সালে এসে আমরা লক্ষ্য করছি যে সঙ্গীত কেবল সুর বা বাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি চ্যানেল, ডেটা, লাইসেন্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার একটি জটিল সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। উপরে উল্লিখিত দুটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে সঙ্গীতের পথগুলো কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে এবং কীভাবে তা আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই পরিকাঠামোগত পরিবর্তনগুলোই নির্ধারণ করবে যে পৃথিবীর সুরগুলো কি উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত থাকবে, নাকি তা খণ্ডিত হয়ে পড়বে।
পরিশেষে বলা যায়, ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপের এই পদক্ষেপগুলো সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো নির্মাণেরই অংশ। নেটইজ-এর সাথে চুক্তি বা ডাউনটাউন মিউজিক অধিগ্রহণ—সবই নির্দেশ করে যে সঙ্গীত এখন একটি বিশ্বব্যাপী পরিকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। এই বিবর্তন নিশ্চিত করে যে প্রযুক্তি এবং সঠিক নীতিমালা যদি একসাথে কাজ করে, তবে সঙ্গীতের আবেদন কোনো সীমানায় আটকে থাকবে না এবং তা বিশ্বজুড়ে মানুষের সাথে মানুষের সংযোগ স্থাপনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে টিকে থাকবে।
