Ordiio HQ — Reel «বিশ্বাসের সাথে মিউজিক লাইসেন্স করুন / বাধা ছাড়া তৈরি করুন»
অর্ডিও (Ordiio): বিশ্ব সংগীতে আফ্রো-ছন্দের এক অনন্য শৈল্পিক বিপ্লব
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে 'অর্ডিও' (Ordiio)। এটি একটি বিশেষায়িত সিঙ্ক্রোনাইজেশন লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত আফ্রো-কেন্দ্রিক সংগীতের ওপর আলোকপাত করে। বর্তমান বিশ্ববাজারে প্রতিদিন গড়ে ১,২৩,০০০-এর বেশি নতুন গান মুক্তি পাচ্ছে। এই বিশাল প্রতিযোগিতার ভিড়ে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতেই অর্ডিওর এই সময়োপযোগী আবির্ভাব।
সাধারণত সংগীতের ক্ষেত্রে গতানুগতিক বা প্রাণহীন ঘরানার লেবেল ব্যবহার করা হলেও অর্ডিও সেই পথ পরিহার করেছে। পরিবর্তে, এই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন অঞ্চল, নির্দিষ্ট সংগীত দৃশ্য এবং খোদ স্রষ্টাদের কেন্দ্র করে তাদের ক্যাটালগ সাজিয়েছে। এখানে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ধারাবাহিক নাটক এবং তথ্যচিত্রের জন্য অত্যন্ত যত্ন সহকারে বাছাইকৃত লাইসেন্সযোগ্য সংগীত, সাউন্ড ইফেক্ট এবং মৌলিক সুর পাওয়া যাবে।
অর্ডিওর মূল দর্শন হলো 'সার্বজনীনতার পরিবর্তে মৌলিকতা'। এখানে সংগীত নির্বাচন করেন এমন সব কিউরেটর এবং সুরকার, যারা আফ্রিকান এবং প্রবাসীদের সংগীত সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই বিশেষ পদ্ধতির ফলে গণ-লাইব্রেরিগুলোতে সচরাচর দেখা যাওয়া একঘেয়ে বা কৃত্রিম 'গ্লোবাল' সাউন্ড এড়িয়ে চলা সম্ভব হয় এবং শব্দের ভেতরে থাকা জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অর্ডিও বেশ অগ্রসর। প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত করা হয়েছে 'মিউজ এআই' (Muse AI), যা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান ব্যবস্থা। ব্যবহারকারীরা তাদের মনের ভাব বা নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে টেক্সট সার্চ করলেই এই এআই তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাটালগ থেকে প্রাসঙ্গিক ট্র্যাকগুলো খুঁজে বের করে দেয়। এটি সৃজনশীল কর্মীদের কাজকে অনেক সহজ করে তুলেছে।
এছাড়া এখানে রয়েছে 'স্টেমস অ্যাক্সেস' (Stems Access) সুবিধা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি গানের আলাদা আলাদা অডিও ট্র্যাক যেমন—কণ্ঠস্বর, পারকাশন বা নির্দিষ্ট বাদ্যযন্ত্রের অংশগুলো আলাদাভাবে ব্যবহার করতে পারেন। পোস্ট-প্রোডাকশন এবং দৃশ্যের সাথে নিখুঁতভাবে শব্দ মেলানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর। প্রথাগত লাইসেন্সিং পদ্ধতিতে যেখানে স্বত্বাধিকার পরিষ্কার করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেত, সেখানে এটি মুহূর্তের মধ্যেই সম্ভব হচ্ছে।
আর্থিক দিক থেকেও অর্ডিও বেশ সাশ্রয়ী। নির্মাতা এবং ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি শুরু হচ্ছে প্রতি মাসে মাত্র ৪.৯৯ ডলার থেকে। এই প্ল্যাটফর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ইউটিউব মনেটাইজেশনের জন্য 'চ্যানেল হোয়াইটলিস্টিং' সুবিধা। এর ফলে কপিরাইট স্ট্রাইক বা আয় হারানোর ভয় ছাড়াই নির্মাতারা তাদের ভিডিওতে সংগীত ব্যবহার করতে পারবেন। ইউটিউবে প্রতি মিনিটে ৫০০ ঘণ্টার বেশি ভিডিও আপলোড হওয়ার এই যুগে এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সমাধান।
বর্তমানে অনেক শিল্পীর কাছে স্ট্রিমিংয়ের চেয়ে সিঙ্ক্রোনাইজেশন লাইসেন্সিং থেকে আয় বেশি হচ্ছে। জেনারেটিভ এআই-এর যুগে যেখানে সংগীত উৎপাদন সস্তা এবং দ্রুততর হয়ে পড়েছে, সেখানে মানুষের গুরুত্ব এখন সাংস্কৃতিক গভীরতা এবং আইনি স্বচ্ছতার দিকে ঝুঁকছে। অর্ডিও ঠিক এই জায়গাতেই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে—যা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও শেকড়ের সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
অর্ডিও কেবল আরেকটি মিউজিক লাইব্রেরি নয়। এটি একটি উদাহরণ যে কীভাবে সংগীত তার উৎস, কণ্ঠস্বর এবং প্রেক্ষাপট ফিরে পেতে পারে, পাশাপাশি আধুনিক মিডিয়া প্রোডাকশনের সাথেও তাল মিলিয়ে চলতে পারে। এটি বিশ্ব সংগীতের মানচিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই উদ্যোগের ফলে পৃথিবীর সুর এখন কেমন শোনাচ্ছে?
- আগের চেয়ে কম গতানুগতিক,
- অনেক বেশি চেনা বা পরিচিত,
- এবং নিজের শেকড়ের প্রতি অনেক বেশি সৎ।
বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেলা কুটি একবার বলেছিলেন, "ছন্দ হলো সেই আত্মা যা মন বোঝার আগেই শরীর মনে রাখে।" জেনারেটিভ এআই-এর এই দ্রুতগতির যুগে অর্ডিও গতির চেয়ে সত্যতাকে বেছে নিয়েছে। তারা সংস্কৃতির কোনো কৃত্রিম অনুকরণ নয়, বরং রাজপথ থেকে শুরু করে গ্রাম কিংবা প্রবাসের প্রতিটি স্পন্দনকে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছে।
পরিশেষে বলা যায়, অর্ডিও কেবল শব্দের কোলাহল বাড়ায়নি, বরং এটি একটি সঠিক অনুরণন তৈরি করেছে। যখন কোনো চলচ্চিত্র বা বিজ্ঞাপনের দৃশ্য হঠাৎ করেই 'আসল' বা 'জীবন্ত' মনে হয়, তখন বুঝতে হবে এটি কেবল কোনো কারিগরি প্রভাব নয়। এটি আসলে সুরের তার আপন ঠিকানায় ফিরে আসার গল্প।
উৎসসমূহ
MyJoyOnline.com
TheAfricanDream.net
Ordiio launches as Afro-leaning sync platform crafted for culture-driven creators
Ordiio: The first Afro-leaning sync platform 'crafted for creators inspired by culture' is here
Ordiio | Royalty-Free African Music & SFX for Film, TV, and Ads
SyncAll unveils platform for fair sync licensing and cultural preservation
