সাবটাইটেল: The Doors x Public Enemy!
doPE: ২০২৬ সালের রেকর্ড স্টোর ডে উপলক্ষে জন ডেনসমোর এবং চাক ডি-এর নতুন অ্যালবাম প্রকাশ
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
দ্য ডোরস (The Doors) ব্যান্ডের কিংবদন্তি ড্রামার জন ডেনসমোর (John Densmore) এবং পাবলিক এনিমি (Public Enemy) ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান চাক ডি (Chuck D) তাদের যৌথ মিউজিক্যাল প্রজেক্ট 'doPE' এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি বিরল এবং প্রতীকী মিলন, যেখানে স্পোকেন ওয়ার্ড, রিদম এবং সামাজিক ভাষ্য একই মোহনায় এসে মিশেছে। এই দুই কিংবদন্তি শিল্পীর মেলবন্ধন সঙ্গীত জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রজেক্টের সূচনা হয়েছিল মূলত ২০১৪ সালে, যখন ডেনসমোর এবং চাক ডি প্রথমবারের মতো রেকর্ড স্টোর ডে (Record Store Day) উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্যানেলে মিলিত হন। সেই সময় চাক ডি এই বিশেষ উদ্যোগের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের সেই প্রাথমিক আলাপচারিতাই পরবর্তীকালে একটি শক্তিশালী সৃজনশীল সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
এর প্রায় এক বছর পর এই ধারণাটি একটি নির্দিষ্ট রূপ পায়। চাক ডি ডেনসমোরকে একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি একটি সহজ ফর্মুলা দিয়েছিলেন: "তোমার কাছে বিট আছে, আমার কাছে আছে রাইম। চলো আমরা doPE তৈরি করি।" এই সোজাসাপ্টা প্রস্তাবটিই দুই ভিন্ন ধারার সঙ্গীতকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে।
প্রজেক্টের নাম 'doPE' কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি দুটি মহান মিউজিক্যাল উত্তরাধিকারের সংমিশ্রণ। 'The Doors' এর প্রথম দুটি অক্ষর এবং 'Public Enemy' এর আদ্যক্ষর নিয়ে এই নামটি গঠিত হয়েছে। চাক ডি নিজেই এই প্রজেক্টের লোগো ডিজাইন করেছেন, যেখানে উভয় ব্যান্ডের ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধারাবাহিকতার প্রতীক।
তাদের অভিষেক অ্যালবাম 'no country for old men' আগামী ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল মুক্তি পেতে যাচ্ছে। রেকর্ড স্টোর ডে উপলক্ষে আয়োজিত এই ইভেন্টটি মূলত সঙ্গীতের শারীরিক উপস্থিতিকে উদযাপন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত। ডিজিটাল যুগের ভিড়ে ভিনাইল বা ফিজিক্যাল রেকর্ডের গুরুত্ব তুলে ধরাই এই মুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
এই অ্যালবামটি একটি লিমিটেড ভিনাইল সংস্করণ হিসেবে বাজারে আসবে। ডিলাক্স গেটফোল্ড প্যাকেজিংয়ের সাথে এতে থাকবে চাক ডি-এর নিজস্ব আঁকা মৌলিক ইলাস্ট্রেশন। এই শৈল্পিক উপস্থাপনা অ্যালবামটিকে কেবল একটি মিউজিক রেকর্ড হিসেবে নয়, বরং একটি সংগ্রাহক আইটেম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করবে।
জন ডেনসমোর এই প্রজেক্টের দার্শনিক দিকটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি গভীর সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "সবাই বৃদ্ধ হয়, কিন্তু সবাই প্রাজ্ঞ বা অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে না।" তার এই উক্তিটি অ্যালবামের মূল সুরকে প্রতিফলিত করে, যা কেবল বয়সের সংখ্যা নয় বরং জীবনের গভীর উপলব্ধিকে গুরুত্ব দেয়।
এই অ্যালবামটি কোনো নস্টালজিয়া বা অতীতচারিতা নয়। এটি মূলত বয়সের সাথে আসা দায়িত্ববোধের একটি দলিল। এখানে অভিজ্ঞতাকে কোনো বোঝা হিসেবে দেখা হয়নি, বরং একে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যা বর্তমান সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
অ্যালবামের প্রধান গান 'every tick tick tick' ইতিমধ্যেই 'রেকর্ড স্টোর ডে ২০২৬-এর সেরা গান' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি প্রজেক্টটিকে কেবল একটি ধারণাগত কাজ হিসেবে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গানটি সময়ের প্রবাহ এবং সচেতনতার এক অনন্য মিশেল।
'doPE' কেবল কিংবদন্তিদের ফিরে আসা নয়, বরং এটি প্রতিবাদের দুটি ভিন্ন ধারার মিলন যা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে অস্বীকার করেছে। যখন রক এবং হিপ-হপ তাদের আঙ্গিক নিয়ে বিতর্ক ছেড়ে অর্থের গভীরে প্রবেশ করে, তখন জীবনের প্রতিটি স্পন্দন বা 'টিক' স্পষ্টভাবে শোনা যায়। এই প্রজেক্টটি বিশ্ব সঙ্গীতে এক নতুন এবং অর্থবহ অধ্যায়ের সূচনা করল।
উৎসসমূহ
American Songwriter
Music Business Worldwide
MusicRadar
Consequence
Stereogum
Radio Nova
Stereogum
Parade
hhv.de
Music Business Worldwide
Music Business Worldwide
Ticketmaster
Noise11.com
Pale Waves - Wikipedia
