আইকোনিকা — «এস.এ.ডি.»: মুখোশ ছাড়া ইলেকট্রনিক সঙ্গীত

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

মাঝে মাঝে কিছু নতুন অ্যালবাম নীরবে আসে, কিন্তু তাদের শব্দ এমন হয় যেন তারা অন্য এক জগতে প্রবেশের দরজা খুলে দেয়। আইকোনিকার ‘এস.এ.ডি.’ ঠিক তেমনই একটি উদাহরণ; এটি কেবল একটি নতুন প্রকাশ নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত এবং সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এক নতুন শুরুর মুহূর্ত।

প্রযোজক এবং ইলেকট্রনিক শিল্পী সারা চেন, যিনি আইকোনিকা (Ikonika) নামেই পরিচিত, আগামী ২০২৫ সালের ২৮শে নভেম্বর কিংবদন্তী লেবেল হাইপারডাব (Hyperdub)-এর ব্যানারে তাঁর নতুন অ্যালবাম ‘এস.এ.ডি.’ (S.A.D.) প্রকাশ করতে চলেছেন। এই লেবেলটি ইলেকট্রনিক দৃশ্যের নতুন ধারার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত, যা উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু।

এই প্রকল্পটি এক বিরল রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়: আইকোনিকা প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণভাবে একাই সব দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি প্রযোজক, গীতিকার, একমাত্র কণ্ঠশিল্পী এবং এই দশটি ট্র্যাকের সম্পূর্ণ স্থাপত্যের নির্মাতা। এই ধরনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এমন একটি পদক্ষেপ যা খুব কম শিল্পী নিতে সাহস করেন।

‘এস.এ.ডি.’ অ্যালবামে আইকোনিকা দক্ষিণ আফ্রিকার আইকনিক ছন্দ আমাপিয়ানো (amapiano) এবং গকম (gqom)-এর সঙ্গে মিশিয়েছেন মিশরীয় ঐতিহ্যকে—যা তবলার তাল থেকে শুরু করে ডাফের শব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি কেবল কোনো বাহ্যিক অনুকরণ নয়; এটি যেন তাঁর মজ্জাগত স্মৃতি। যে তালগুলো তাঁর বাবা তাঁকে একসময় শিখিয়েছিলেন, সেগুলোই এখন আইকোনিকার নতুন সাউন্ডস্কেপের ভিত্তি তৈরি করছে।

অ্যালবামের গীতিকথা মূলত নিরাপত্তা, সীমা এবং আত্ম-যত্নের বিষয়গুলিকে অন্বেষণ করে। ট্র্যাকগুলো যেমন সেন্স সিকার (Sense Seeker) এবং টেক কন্ট্রোল (Take Control)-এ লিরিক্সগুলো সাজানো হয়েছে যেন সেগুলি অভ্যন্তরীণ মন্ত্র, যা শ্রোতাকে নিজের গভীরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। লেখিকা টাইস সিন (Tice Cin) এখানে সাহিত্যিক প্রতিধ্বনি যোগ করেছেন, এবং প্রযোজক শি স্পেলস ডুম (SHE Spells Doom) যুক্ত করেছেন অতিরিক্ত ধ্বনিগত গভীরতা।

অ্যালবামের দুটি একক গান, ‘লিসেন টু ইওর হার্ট’ (Listen To Your Heart) এবং ‘সেন্সেসিকার’ (Senseseeker), ইতিমধ্যেই অ্যালবামের মেজাজ তৈরি করে দিয়েছে: এতে রয়েছে নাচের উপযোগী স্পন্দন, পপ সঙ্গীতের নমনীয়তা এবং আইকোনিকার নিজস্ব ভঙ্গুর অথচ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠস্বর।

এই অ্যালবামটি লাইভ মঞ্চে প্রথম পরিবেশিত হবে আগামী ২রা ডিসেম্বর লন্ডনের দ্য সোশ্যাল (The Social)-এ। এই স্থানটি এমন এক জায়গা যেখানে কেবল গান শোনা হয় না, বরং শ্রোতারা সঙ্গীতের গভীরে বাস করে।

এই ইভেন্টের সাউন্ডস্কেপ—যা পৃথিবীর ছন্দে কী যোগ করছে

এটি কেবল একটি সাধারণ ইলেকট্রনিক রিলিজ নয়—এটি হলো ২০২৫ সালের বৈশ্বিক সঙ্গীতের এক প্রতিচ্ছবি, যেখানে ঘরানার সীমারেখা মুছে যাচ্ছে এবং সাংস্কৃতিক শিকড়গুলো উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

‘এস.এ.ডি.’ বিশ্বজুড়ে আমরা যে ঢেউ দেখতে পাচ্ছি, তাকে আরও শক্তিশালী করছে: সঙ্গীত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সম্পত্তি নয়—এটি সমগ্র বিশ্বের। আর আইকোনিকা এই ধারণাকেই শব্দে রূপান্তরিত করছেন।

কখনও কখনও একজন শিল্পী তখনই নিজেকে খুঁজে পান যখন তিনি জোরে কথা বলেন না, বরং যখন তিনি প্রভাব বা কৃত্রিমতার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন। আইকোনিকা এখানে কেবল তাঁর কণ্ঠস্বর উন্মোচন করছেন না, বরং তিনি এমন এক স্থানকে উন্মোচন করছেন যেখানে ঐতিহ্য আধুনিকতার স্পন্দন হয়ে ওঠে।

যদি আইকোনিকার পূর্ববর্তী কাজগুলো ছিল অনুসন্ধানের মতো, তবে ‘এস.এ.ডি.’ হলো তাঁর নিজস্ব আকাশের মানচিত্র।

উৎসসমূহ

  • The Guardian

  • Republic World

  • Scroll.in

  • Qrius

  • Juno Daily

  • Soundspace

  • Beatport

  • RA (Resident Advisor)

  • Apple Music

  • Tailored Communication

  • Hyperdub

  • The Guardian

  • NDTV

  • Knowlepedia

  • The Times of India

  • Sacnilk

  • The Indian Express

  • Koimoi

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • The Times of India

  • ANI News

  • Wikipedia

  • Bollywood Hungama

  • Wikipedia

  • The Hindu

  • India Today

  • India Forums

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।