কেবল নস্টালজিয়া নয়, এক গভীর অনুরণন: ২০২৬ সালের ডিজিটাল চার্টে এডেম-এর “Over Again”-এর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

Edem - আবার (আধिकारिक ভিডিও)

ঘানার প্রখ্যাত শিল্পী এডেম (Denning Edem Hotor)-এর কালজয়ী সৃষ্টি «Over Again» গানটি প্রায় এক দশক আগে ২০১৪ সালে প্রথম মুক্তি পেয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে এই গানটি ডিজিটাল দুনিয়ায় এক অভূতপূর্ব দ্বিতীয় জীবন লাভ করেছে। বর্তমানে গানটি ঘানার জাতীয় পর্যায়ে স্পটিফাই টপ ১০০ (Spotify Top 100) তালিকায় নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে এবং বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করছে। এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তা শিল্পী এডেম-এর পুরনো কাজটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে এবং প্রমাণ করেছে যে মানসম্মত সংগীতের আবেদন কখনোই ফুরিয়ে যায় না।

এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের পেছনে কেবল নস্টালজিয়া বা পুরনো স্মৃতির রোমন্থন কাজ করেনি, বরং আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর এক বিশাল ও কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে টিকটক (TikTok) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই গানটি এখন বিশ্বাসঘাতকতা, হৃদযন্ত্রণা এবং সেই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার ব্যক্তিগত গল্পের এক আবেগঘন সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যখন বড় মাপের ইনফ্লুয়েন্সার এবং সৃজনশীল ডিজিটাল নির্মাতারা এই ট্রেন্ডে সক্রিয়ভাবে যোগ দিচ্ছেন, তখন গানটির প্রচারের পরিধি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমগুলোও এখন এই পুরনো ক্যাটালগটির পক্ষে কাজ করতে শুরু করেছে, যার ফলে একটি পুরনো গান আবারও বর্তমান সময়ের মূলধারার সংগীত চক্রে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।

শিল্পী এডেম নিজে এই গানটির অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে সর্বদা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, গানটি তৈরির মুহূর্তেই তিনি এর গভীর আবেদন অনুভব করেছিলেন। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের সাথে এই গানের যে আত্মিক সংযোগ তৈরি হয়েছে, তা তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। এই নতুন শ্রোতারা গানটির মূল সুর ও অর্থকে তাদের সমসাময়িক জীবনের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। এই ঘটনাটি আধুনিক সংগীত শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে: যদি কোনো সৃষ্টির আবেদন সর্বজনীন হয় এবং তা মানুষের মনের গহীনে পৌঁছাতে পারে, তবে ডিজিটাল কন্টেন্ট যেকোনো পুরনো আর্কাইভকে পুনরায় মূলধারার জনপ্রিয়তায় ফিরিয়ে আনতে পারে।

এডেম-এর এই সাফল্যের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। ঘানার ভোল্টা অঞ্চলের দজোদজে (Dzodze) থেকে উঠে আসা এই শিল্পী তার সংগীত জীবনের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেছিলেন স্কুল জীবনেই, যেখানে তিনি ‘রিংমাস্টার্স’ (Ringmasters) নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন। ২০০৬ সালে তার «Wotome Woshi» গানটি মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সংগীত জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার এই দীর্ঘ পরিশ্রম ও মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ২০১৫ সালে সম্মানজনক ব্ল্যাক কানাডিয়ান অ্যাওয়ার্ডস (Black Canadian Awards)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন। তার এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবনই তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে তার এক দশক আগের কাজও নতুন করে বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত হচ্ছে।

এই সামগ্রিক ঘটনাটি বিশ্ব সংগীতের মানচিত্রে একটি বিরল ও গভীর স্তর যোগ করেছে। এটি আমাদের দেখায় যে, যখন কোনো গান সময়ের সাথে সাথে ম্লান না হয়ে বরং আরও পরিপক্ক হয়ে ওঠে, তখন সেটি কেবল একটি ‘রেট্রো’ বা পুরনো স্মৃতি হিসেবে ফিরে আসে না। বরং এটি এমন একটি নিরাময়ের ভাষায় পরিণত হয়, যা সেইসব মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনি তোলে যারা বর্তমানে নিজেদের ওপর পুনরায় বিশ্বাস স্থাপন করতে শিখছেন। সংগীতের এই পুনর্জাগরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত শিল্প কখনোই হারিয়ে যায় না, বরং সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে এবং মানুষের আবেগের সাথে মিশে গিয়ে অমরত্ব লাভ করে।

1 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • News Ghana

  • The Ghanaian Chronicle

  • Roger A. Agana

  • MyJoyOnline

  • Tooxclusive

  • Wikipedia

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।