Noam Bettan - Michelle | ইসরায়েল 🇮🇱 | অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও
ভিয়েনায় ইউরোভিশন ২০২৬: রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে সুরের মহোৎসব
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
আগামী ২০২৬ সালের মে মাসে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোভিশন সং কনটেস্টের প্রস্তুতি এখন এক গভীর রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে এই প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে, যা এই বিশ্বখ্যাত সংগীত আসরের উৎসবমুখর পরিবেশে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে।
২০২৬ সালের ১১ মার্চের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া এবং স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং এই পরিস্থিতিতেও আয়োজক সংস্থা—ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (EBU)—কর্তৃক ইসরায়েলকে প্রতিযোগিতায় বহাল রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই গণ-প্রত্যাহারের ঘটনাটি ইউরোভিশনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৭০ সালের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে এটিই সবচেয়ে বড় বর্জন বা সরে দাঁড়ানোর ঘটনা। এই পরিস্থিতি প্রতিযোগিতার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং এর অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তিকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে বিকল্প সাংস্কৃতিক উদ্যোগের জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূল প্রতিযোগিতার ফাইনালের দিনেই ব্রাসেলসে "ইউনাইটেড ফর প্যালেস্টাইন" শিরোনামে একটি বিশেষ কনসার্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রতিবাদী কনসার্টে বেলজিয়ামের বেশ কিছু প্রথিতযশা শিল্পীর অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যা মূল আসরের সমান্তরালে এক ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দেবে।
বেলজিয়ামের অভ্যন্তরেও এই বিতর্ক বেশ জোরালো রূপ নিয়েছে। দেশটির ১৭০ জনেরও বেশি শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইউরোভিশনে বেলজিয়ামের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই প্রবল জনমতের বিপরীতে দেশটির জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম RTBF প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের ফ্লেমিশ সম্প্রচার সহযোগী VRT এক অভিনব ও প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, তারা প্রতিযোগিতাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে ঠিকই, কিন্তু কোনো জাতীয় ধারাভাষ্যকার ছাড়াই। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা চলমান পরিস্থিতির প্রতি তাদের নীরব প্রতিবাদ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করতে চায়।
এবারের প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ গায়ক নোয়াম বেটান। তার পরিবেশিতব্য গানটির শিরোনাম "মিশেল"। গানটি হিব্রু, ইংরেজি এবং ফরাসি—এই তিনটি ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই শৈল্পিক প্রচেষ্টা রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রিয়ান সম্প্রচারকারী সংস্থা ORF জানিয়েছে যে, তারা ভিয়েনার অনুষ্ঠানস্থলে ফিলিস্তিনি পতাকা বহনে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। এমনকি পারফরম্যান্সের সময় দর্শকদের সম্ভাব্য কোনো প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদও তারা কৃত্রিমভাবে স্তিমিত বা সেন্সর করার চেষ্টা করবে না। এই সিদ্ধান্তটি বিগত বছরগুলোর কঠোর সেন্সরশিপ নীতির তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী ১৬ মে ফাইনালের দিন ভিয়েনায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সম্ভাব্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অস্ট্রিয়া সরকারকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। উৎসবের আমেজ বজায় রাখা এবং একই সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আয়োজকদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্পেনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অংশীদার দেশ প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোয় ইউরোভিশনের সামগ্রিক বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর্থিক চাপ এবং অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ৭০তম বার্ষিকী আয়োজনটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রতিনিধিত্বশীল ইভেন্টে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউরোভিশনের দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এটি কেবল একটি সংগীত প্রতিযোগিতা নয়, বরং ইউরোপের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার এক স্বচ্ছ দর্পণ। কখনো সংগীত বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে, আবার কখনো এটি সমসাময়িক জটিল ও সংবেদনশীল প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
বর্তমান এই উত্তাল পরিস্থিতি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, সংগীতের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে সংযুক্ত করা। তবে যখন বিশ্ব রাজনীতি এবং মানবিক সংকটগুলো সামনে চলে আসে, তখন সুরের মঞ্চও সেই বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে পারে না। সম্ভবত এই কঠিন মুহূর্তগুলোতেই সংগীতের প্রকৃত শক্তি এবং এর সীমাবদ্ধতাগুলো সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
উৎসসমূহ
vrtnws.be
Eurovision Song Contest 2026 - Wikipedia
Eurovision boycott over Israel participation | BBC News - YouTube
ESC Vienna 2026
Belgian Musicians, Italian Broadcast Union Pressure Their Countries to Boycott Eurovision Over Israel's Participation | Algemeiner.com
Belgian artists urge boycott of Eurovision 2026 over Israel's participation
