ফরাসি প্রযোজক ও বিশ্বখ্যাত ডিজে ডিজে স্নেক (DJ Snake) তাঁর তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘নোম্যাড’ (Nomad) প্রকাশ করেছেন ৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে। এই অ্যালবামটি গ্রহের বিভিন্ন ছন্দের মধ্য দিয়ে এক অসাধারণ শ্রুতিমধুর ভ্রমণ। ১৭টি কম্পোজিশনের এই সংগ্রহটি বিভিন্ন সঙ্গীত ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক শক্তিকে একত্রিত করেছে। এটি এক সুসংহত শিল্পকর্ম, যার প্রতিটি সুর যেন অবাধ বিচরণের স্বাধীনতাকে ফুটিয়ে তোলে।
শিল্পী নিজেই ‘নোম্যাড’কে এমন একটি প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা "বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঘরানার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।" এই অ্যালবামের সাউন্ডিংয়ে হিপ-হপ, ড্যান্সহল, ট্র্যাপ, রেগেটন এবং কে-পপ-এর মতো বৈচিত্র্যময় ঘরানার মিশ্রণ ঘটেছে—যা পৃথিবীর নিজস্ব বহুস্বরিক সংলাপের মতো।
এই ধারণাটি জন্ম নিয়েছিল ১০ মে, ২০২৫ তারিখে স্টেড ডি ফ্রান্স (Stade de France)-এ ডিজে স্নেকের ঐতিহাসিক কনসার্টের পরে। সেই রাতে, একজন ইলেকট্রনিক মিউজিক শিল্পী হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো ৮০,০০০ দর্শকের স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ ভর্তি করে দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক সেই কনসার্টে ‘নোম্যাড’-এর অনেকগুলো ট্র্যাক প্রথমবার শোনা গিয়েছিল, যা এক নতুন সাউন্ড এরার আগমনী বার্তা ছিল।
এই অ্যালবামে বিশ্বের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পীর সাথে ডিজে স্নেকের যৌথ কাজ রয়েছে। এদের মধ্যে আছেন ট্র্যাভিস স্কট (Travis Scott), ফিউচার (Future), জে বালভিন (J Balvin), স্ট্রে কিডস (Stray Kids) এবং জিম্বাবুয়ের প্রযোজক বান্টু (Bantu)। বান্টু (টিনাশে সিবান্দা) এর আগে ডিজে স্নেকের হিট গান ‘মি জেন্তে’ (Mi Gente) তৈরিতেও অংশ নিয়েছিলেন। তাদের এই সহযোগিতা সাংস্কৃতিক সংশ্লেষণ তৈরি করেছে—আফ্রিকান স্পন্দন থেকে ল্যাটিন আমেরিকান ছন্দ, সিউল মঞ্চ থেকে ফরাসি আরবান মিউজিক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি।
বিশেষ করে ‘কোম্পানি’ (Company) ট্র্যাকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—যা মৃদু হলেও শক্তিশালী এক স্রোত, যা বিশ্বের পারস্পরিক সাউন্ডের ধারণাকে মূর্ত করে তোলে। ‘নোম্যাড’ কেবল ট্র্যাকের একটি সংগ্রহ নয়, এটি কায়রো থেকে জ্যামাইকা, প্যারিস থেকে সিউল পর্যন্ত বিস্তৃত এক সঙ্গীতময় বৈশ্বিক মানচিত্র।
পূর্ববর্তী অ্যালবাম ‘কার্টে ব্লাঞ্চ’ (Carte Blanche)-এর মতো, নতুন এই ডিস্কটিতেও ১৭টি কম্পোজিশন কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে। তবে ‘নোম্যাড’ একটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে—স্থানীয় থেকে বৈশ্বিক স্তরে রূপান্তর, রাস্তার স্পন্দন থেকে পৃথিবীর ছন্দে প্রবেশ। এই রিলিজ ডিজে স্নেকের সেই খ্যাতিকে আরও দৃঢ় করে, যিনি কেবল হিট গান বানান না, বরং আধুনিক বিশ্ব সঙ্গীতের স্থাপত্য নির্মাণ করেন—যেখানে ছন্দ হয় সীমাহীন ভ্রমণের মাধ্যম।



