“We Belong Together” - পৃথিবী ইতিমধ্যেই সংকেতগুলো দেখছে। বাকি শুধু প্রথম কর্ডটি শুনতে বাকি।
হ্যারি স্টাইলস শুরু করেছেন ‘উই বিলং টুগেদার’ ক্যাম্পেইন: নতুন সংগীতের পদধ্বনি
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক বিপণন উদ্যোগ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হ্যারি স্টাইলস (Harry Styles) খুব শীঘ্রই নতুন সংগীত নিয়ে ফিরে আসছেন। তার অত্যন্ত সফল অ্যালবাম ‘হ্যারিস হাউস’ (Harry’s House)-এর পর, এই শিল্পী পপ জগতের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে একটি বিরল বিরতি নিয়েছিলেন। তবে এখন সেই নীরবতা ভাঙার সময় এসেছে এবং বিশ্বজুড়ে তার ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
চিরন্তন, চিরন্তন
২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এই প্রচারণার মূল ভিত্তি হলো ‘উই বিলং টুগেদার’ (We Belong Together) নামক একটি বাক্যাংশ। এই বার্তাটি বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভৌত বিজ্ঞাপনী মাধ্যমে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি ভক্তদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
এই প্রত্যাবর্তনের প্রথম সংকেত পাওয়া গিয়েছিল মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই সময় স্টাইলস ‘ফরএভার, ফরএভার’ (Forever, Forever) শিরোনামে একটি নয় মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। এটি ছিল ইতালির রেজিও এমিলিয়াতে তার ‘লাভ অন ট্যুর’ (Love On Tour)-এর সমাপনী কনসার্টে রেকর্ড করা একটি পিয়ানো ইনস্ট্রুমেন্টাল পিস।
ভিডিওটি প্রথম দর্শনে একটি বিদায়বার্তা বলে মনে হলেও, এর শেষ লাইনে থাকা ‘উই বিলং টুগেদার’ কথাটি আসলে কোনো সমাপ্তি ছিল না। বরং এটি ছিল একটি নতুন গল্পের সূচনা। জন কেজ যেমন বলেছিলেন, ‘সংগীত কেবল শব্দ নয়; শব্দ চলে যাওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই সংগীত।’ হ্যারির ক্ষেত্রেও এই নীরবতা এক গভীর অর্থ বহন করছে।
এই রহস্যময় প্রচারণার একটি প্রধান অংশ হলো webelongtogether.co ওয়েবসাইটটি। এটি কলম্বিয়া রেকর্ডস-এর মূল কোম্পানি সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট (Sony Music Entertainment)-এর অধীনে নিবন্ধিত। ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীদের ‘এইচএসএইচকিউ’ (HSHQ বা Harry Styles Headquarters) নামক একটি নম্বরে বার্তা পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে, যা সরাসরি সেই ‘ফরএভার, ফরএভার’ ভিডিওর সাথে সম্পর্কিত।
একই সাথে বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে রহস্যময় পোস্টার দেখা যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, বার্লিন, রোম, সাও পাওলো, ম্যানচেস্টার এবং পালেরমোতে এই পোস্টারগুলো লাগানো হয়েছে। সেখানে ‘সি ইউ ভেরি সুন’ (see you very soon) বা ‘ইটস অল ওয়েটিং দেয়ার’ (it’s all waiting there)-এর মতো বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভক্তদের সাথে এক নিরব সংলাপ তৈরি করছে।
নিষ্ঠাবান ভক্তদের কাছে হ্যারির এই প্রচারণার ধরণটি বেশ পরিচিত। তার ‘ফাইন লাইন’ (Fine Line) অ্যালবাম প্রকাশের আগে বিশ্বজুড়ে ‘ডু ইউ নো হু ইউ আর?’ (DO YOU KNOW WHO YOU ARE?) এবং ‘টিপিডব্লিউকে’ (TPWK) লেখা বিলবোর্ড দেখা গিয়েছিল। একইভাবে ২০২২ সালের বসন্তে ‘হ্যারিস হাউস’ প্রকাশের আগেও একটি রহস্যময় ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছিল।
বর্তমানে হ্যারি স্টাইলসের সংগীতের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। স্পটিফাই-তে তার ‘অ্যাজ ইট ওয়াজ’ (As It Was) গানটি ৪.২ বিলিয়ন স্ট্রিম অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এই শিল্পীর মাসিক শ্রোতার সংখ্যা প্রায় ৪৮.৬ মিলিয়ন। তার এই বিশাল সাফল্য প্রমাণ করে যে, তিনি বিরতিতে থাকলেও তার সংগীতের আবেদন কমেনি।
সংগীতের বাইরেও হ্যারি নিজের শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বার্লিন ম্যারাথনে ২ ঘণ্টা ৫৯ মিনিটে দৌড় শেষ করেছেন এবং টোকিও ম্যারাথনেও অংশ নিয়েছেন। এই কাজগুলো তার সৃজনশীল জীবনের বাইরে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসলে তার পরবর্তী বড় কাজের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের একটি মাধ্যম।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচারণার ধরণটি ২০২৬ সালে একটি বড় প্রকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হবে তার চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম (HS4), যা সম্ভবত ২০২৬ সালের বসন্তকালে মুক্তি পেতে পারে। ভক্তরা অধীর আগ্রহে এই নতুন সৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছেন।
সংগীত মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, হ্যারি আবারও বড় মঞ্চে ফিরবেন। নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টারের কো-অপ লাইভ (Co-op Live) পর্যন্ত বিভিন্ন ভেন্যুতে তার পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ম্যানচেস্টারের এই ভেন্যুতে হ্যারি একজন বিনিয়োগকারী হিসেবেও যুক্ত আছেন।
এই পুরো প্রচারণাটি কেবল কোলাহল তৈরি করার জন্য নয়, বরং এটি বিরতির প্রতি এক ধরণের আস্থা তৈরি করেছে। বর্তমানের নিরবচ্ছিন্ন কন্টেন্ট তৈরির যুগে হ্যারি স্টাইলস মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, অপেক্ষাও সংগীতের একটি অংশ হতে পারে। শিল্পী এবং বিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক কেবল শব্দের মাধ্যমে নয়, বরং সময়ের এক অভিন্ন অনুভূতির মাধ্যমেও গড়ে উঠতে পারে।
কথায় আছে, ‘কখনও কখনও নিজেকে শোনানোর জন্য প্রথমে নীরব থাকতে হয়।’ হ্যারির এই নীরবতা এখন এক বিশাল গর্জনে রূপ নিতে যাচ্ছে। ‘উই বিলং টুগেদার’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি সহজ এবং শক্তিশালী সত্য যে আমরা একে অপরের পরিপূরক।
যতক্ষণ সংগীত আছে, বিশ্ব ততক্ষণ ঐক্যবদ্ধ থাকতে জানে। কারণ আমাদের জীবনের সাধারণ ছন্দটি কোথাও হারিয়ে যায়নি—এটি কেবল সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। হ্যারি স্টাইলসের এই নতুন যাত্রা সেই ছন্দকেই আবারও ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।
উৎসসমূহ
GALA
Mirror
GMX News
Billboard
RUSSH
What's On
Imperial.events
The Economic Times
Mixtape Madness
The Statesman
EasternEye
VertexAI Search
The Statesman
Men's Journal
Rolling Stone UK
