বিটিএস (BTS) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। তাদের নতুন অ্যালবামটি ২০২৬ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত হবে। এই খবরটি তাদের ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিগহিট মিউজিক (BigHit Music) কর্তৃক ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি জানানো হয়েছে। এই তারিখটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা শেষ করার পর সাত সদস্যের এই দলের প্রথম সম্মিলিত সঙ্গীত প্রকাশনা হতে চলেছে। এর আগে ২০২২ সালের জুনে তাদের অ্যান্থোলজি অ্যালবাম 'প্রুফ' প্রকাশের পর দলটি বিরতিতে গিয়েছিল।
এই ঘোষণার পদ্ধতিটি ছিল প্রথাগত প্রেস বিজ্ঞপ্তির চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক এবং ব্যক্তিগত। ২০২৬.০৩.২০ তারিখটি প্রথমে সরাসরি প্রচারের মাধ্যমে না জানিয়ে নির্বাচিত কিছু ভক্ত, যারা ওয়েভার্স (Weverse) প্ল্যাটফর্মে 'গোল্ড' স্ট্যাটাস বজায় রেখেছিলেন, তাদের কাছে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়। এটি ছিল একটি নীরব বার্তা— 'তোমরা অপেক্ষা করেছ, আর আমরা তা ভুলিনি'। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল প্রচারমূলক নয়, বরং কৃতজ্ঞতা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। আরএম (RM) বিশেষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি এই মুহূর্তটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, অন্যদিকে জিন (Jin) জানিয়েছিলেন যে তার একক কাজ শেষ করার পর তিনি ভক্তদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলতে প্রস্তুত: 'আমরা আবার একসঙ্গে আছি'।
দলটির সামরিক জীবনের অধ্যায়টি এখন সমাপ্ত। সুগা (Suga) ছিলেন সর্বশেষ সদস্য যিনি তার সামরিক দায়িত্ব শেষ করেন। যদিও তিনি বিকল্প পরিষেবা শেষ করেছিলেন ২০২৫ সালের ১৮ জুন, তার আনুষ্ঠানিক অব্যাহতিপত্র প্রাপ্তির তারিখ ছিল জুন ২১, ২০২৫। এর আগেই, অর্থাৎ জুন ২০২৫-এ জিমিম (Jimin) এবং জাংকুক (Jungkook) সামরিক দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, যার ফলে দলের এই 'নিস্তব্ধতার পর্ব' পুরোপুরি অতীত হয়ে যায়।
চিঠি প্রকাশের পরপরই বিটিএস তাদের ভিজ্যুয়াল পরিচিতিতেও পরিবর্তন আনে। দলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো একটি মিনিমালিস্টিক কালো নকশায় পরিবর্তিত হয়, যা সাধারণত কোনো বড় ইভেন্টের আগমনী বার্তা বহন করে। নতুন বছরের প্রাক্কালে, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ তারা ওয়েভার্সে লাইভে এসে অপেক্ষার কথা বলেন এবং একটি শক্তিশালী অ্যালবামের প্রতিশ্রুতি দেন— যা ছিল বিনা বাক্যব্যয়ে দেওয়া এক দৃঢ় অঙ্গীকার।
২০ মার্চ অ্যালবাম প্রকাশের পর বিটিএস একটি বিশাল বিশ্বব্যাপী সফরের পরিকল্পনা করছে। যদিও ভ্রমণের রুট বা স্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত দেয় যে তাদের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি একক ইভেন্ট নয়, বরং বিশ্ব সঙ্গীত মঞ্চে দলের উপস্থিতি নতুন করে শুরু করার একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়। এটি কেবল ফিরে আসা নয়, বরং একটি নতুন যুগের সূচনা।
এই প্রত্যাবর্তন বিশ্ব সঙ্গীতের পরিমণ্ডলে কী যোগ করল? এটি এনেছে এক গভীর 'ফিরে আসার অনুভূতি'— যেমন দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় কোনো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পুনরায় চালু হলে হয়। এটি কেবল একটি ব্যান্ডের প্রত্যাবর্তন নয়; এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মিলিত শ্বাস গ্রহণ, যেখানে ধৈর্য, ভালোবাসা এবং ঐক্য সঙ্গীতের মাধ্যমে পুনরায় বিশ্বকে শোনাচ্ছে তাদের সম্মিলিত সুর।


