ব্ল্যাক কফি এবং জেকস বান্টউইনি আবারও এক মঞ্চে: ডারবানে দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

Black Coffee এবং Zakes Bantwini ১৫ বছর পরে পুনর্মিলিত হন

মাঝে মাঝে কথা বলার আগেই সুর ফিরে আসে।

Zakes Bantwini_ আমি আমার সময় নষ্ট করছি

২০২৬ সালের ২৩ মার্চ ডারবানে এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীত জগত প্রায় দেড় দশক ধরে অপেক্ষা করছিল: ব্ল্যাক কফি (Black Coffee) এবং জেকস বান্টউইনি (Zakes Bantwini) দীর্ঘ সময় পর আবারও একই মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছেন।

প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এটিই ছিল তাদের প্রথম কোনো যৌথ উপস্থিতি।

মজার বিষয় হলো, এই পুনর্মিলন কোনো বড় উৎসব বা সরকারি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘটেনি—এটি ঘটেছে বান্টউইনির নতুন অ্যালবামের একটি লিসেনিং ইভেন্টে। ঠিক এই কারণেই মুহূর্তটি আরও বেশি আন্তরিক এবং অকৃত্রিম ছিল।

কখনও কখনও বড় কোনো প্রত্যাবর্তনের শুরুটা হয় খুব নীরবে।

এই দুই শিল্পীর পুনর্মিলন ঘটেছে দীর্ঘদিনের এক চাপা উত্তেজনার পর, যা ২০২০-এর দশকের শুরু থেকে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচিত হচ্ছিল। তাদের এই দূরত্বের কারণ হিসেবে ২০২১ সালে 'ওসামা' (Osama) গানটির ব্যাপক সাফল্য এবং পরবর্তী সময়ে তাদের সৃজনশীল ধারার পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়।

ঠিক এই কারণেই ডারবানের সেই সন্ধ্যায় তাদের সাক্ষাৎ কেবল একটি সাধারণ পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হয়নি।

একে দেখা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ অধ্যায়ের সার্থক সমাপ্তি হিসেবে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বান্টউইনি আবেগভরে স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেও মনে করতে পারছেন না শেষ কবে তার এই 'ভাইয়ের' সাথে মঞ্চ শেয়ার করেছিলেন।

মাঝে মাঝে একটি মাত্র শব্দ দীর্ঘ কোনো প্রেস রিলিজের চেয়েও অনেক বেশি গভীর অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

অনেক শ্রোতার কাছে এই মুহূর্তটি ছিল একটি আস্ত সোনালী যুগের ফিরে আসা।

২০১০-এর দশকের শুরুতে ব্ল্যাক কফি এবং বান্টউইনির যৌথ কাজগুলোই আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকান ইলেকট্রনিক মিউজিকের ভাষা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া তাদের আইকনিক ট্র্যাক 'জুজু' (Juju) আজও সেই সময়ের এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে, যা আফ্রিকান হাউস মিউজিককে মহাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে 'লাভ, লাইট অ্যান্ড মিউজিক' (Love, Light & Music) অ্যালবামে তাদের সহযোগিতা দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীতের প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্বের মনোযোগ আরও সুসংহত করে।

তাদের এই সৃষ্টিগুলো কেবল জনপ্রিয়ই ছিল না।

বরং তা ছিল বিশ্ব ইলেকট্রনিক মিউজিকের মানচিত্রে আফ্রিকার এক শক্তিশালী এবং স্বীকৃত প্রবেশদ্বার।

দীর্ঘ বিরতির এই বছরগুলোতে দুই শিল্পীই নিজ নিজ স্বতন্ত্র পথে সফলতার শীর্ষে পৌঁছেছেন।

ব্ল্যাক কফি আজ বিশ্ব ইলেকট্রনিক মিউজিকের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং একজন সম্মানজনক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড (Grammy Awards) বিজয়ী তারকা।

অন্যদিকে, জেকস বান্টউইনি আফ্রিকান ভোকাল হাউস মিউজিকের ধারাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে তিনি ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।

তাই তাদের এই নতুন সাক্ষাৎ কেবল একটি কনসার্টের মুহূর্তের চেয়েও বড় কিছু ছিল।

এটি ছিল দীর্ঘ বিরতির পর একটি সংলাপের পুনঃসূচনা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বান্টউইনির অ্যালবামের অনুষ্ঠানে ব্ল্যাক কফির উপস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত, এমনকি আয়োজকদের কাছেও।

তবে জীবনের এমন আকস্মিক মুহূর্তগুলোই প্রায়শই বড় কোনো পরিবর্তনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সংগীত আবারও তার চিরন্তন ভূমিকা পালন করেছে—মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।

যদিও ভবিষ্যতে তাদের কোনো যৌথ প্রজেক্ট নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে মঞ্চের সেই দৃশ্যটিই সব বলে দিয়েছে। কখনও কখনও নতুন শুরুর জন্য কোনো রিলিজের প্রয়োজন হয় না।

একটি সাধারণ দৃষ্টি বিনিময় এবং একই ছন্দে পা মেলানোই হতে পারে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা।

এই ঘটনাটি বিশ্ব সংগীতের মানচিত্রে কী নতুন মাত্রা যোগ করল?

ব্ল্যাক কফি এবং জেকস বান্টউইনির এই পুনর্মিলন ছিল মূলত আস্থার এক নতুন সুর—এটি মনে করিয়ে দেয় যে, পথ আলাদা হয়ে গেলেও সংগীত সবসময়ই সংলাপের একটি উন্মুক্ত স্থান হিসেবে টিকে থাকে।

এটি এমন এক সুর, যেখানে সংগীত আবারও মিলনের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে এবং ঠিক এই কারণেই এটি সাধারণ ছন্দ ছাড়িয়ে বিভিন্ন মহাদেশকে একসূত্রে গেঁথে রাখে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Citizen

  • Durban ICC

  • The Citizen

  • Briefly.co.za

  • Bona Magazine

  • HYPE Magazine

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।