Angelique Kidjo - Do Yourself (আধ официальный মিউজিক ভিডিও) ft. Burna Boy
আফ্রিকা থেকে ধ্বনিত হচ্ছে আশার সুর: নতুন অ্যালবামে বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধছেন অ্যাঞ্জেলিক কিজো
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
পাঁচবারের গ্র্যামি পুরস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত বেনিনীয় গায়িকা অ্যাঞ্জেলিক কিজো (Angelique Kidjo) তার নতুন স্টুডিও অ্যালবাম “Hope!!” প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেছেন। সংগীতপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই অ্যালবামটি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এটি শিল্পীর দীর্ঘ সংগীত সফরের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Nadi Balance - Angélique Kidjo, Fally Ipupa, The Cavemen. (Sheila Maurice-Grey সহ) (আধिकारिक ভিডিও)
এই প্রজেক্টটি অ্যাঞ্জেলিক কিজোর ১৯তম স্টুডিও অ্যালবাম হতে যাচ্ছে, যাতে মোট ১৪টি নতুন গান স্থান পেয়েছে। এই অ্যালবামটি শিল্পীর কাছে অত্যন্ত আবেগঘন এবং ব্যক্তিগত; কারণ তিনি এটি তার মা ইভন (Yvonne)-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। উল্লেখ্য যে, পাঁচ বছর আগে তার মা পরলোকগমন করেন এবং কিজোর মতে, তার মায়ের অদম্য শক্তি ও সহনশীলতার উত্তরাধিকারই এই কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
সাবটাইটল: Angelique Kidjo - "Agolo"
অ্যালবামটি তৈরি করতে শিল্পীর প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে, যা এই প্রজেক্টের প্রতি তার গভীর মনোযোগ এবং সৃজনশীল নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটায়। প্রতিটি সুর ও বাণীর বিন্যাসে তিনি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন যাতে এটি কেবল একটি সাধারণ অ্যালবাম নয়, বরং একটি জীবনমুখী শিল্পকর্মে পরিণত হয়।
অ্যাঞ্জেলিক কিজো দীর্ঘকাল ধরে তার অনন্য সংগীত শৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, যেখানে পশ্চিম আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুরের সাথে ফন (Fon) এবং ইয়োরুবা (Yoruba) ছন্দের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটে। এর পাশাপাশি জ্যাজ, ফাঙ্ক, আরঅ্যান্ডবি এবং বিশ্ব সংগীতের বিভিন্ন আধুনিক উপাদান তার সৃষ্টিকে এক অনন্য উচ্চতা দান করেছে।
নতুন এই অ্যালবামেও তিনি সাংস্কৃতিক সংশ্লেষণের সেই ধারা বজায় রেখেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য শিল্পীরা এই অ্যালবামের রেকর্ডিংয়ে অংশ নিয়েছেন, যা একে একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক প্রজেক্টে রূপ দিয়েছে। এই সংমিশ্রণটি বিভিন্ন মহাদেশের সংগীতের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
আফ্রিকান মহাদেশের প্রতিভাবান শিল্পীদের মধ্যে যারা এই অ্যালবামে কিজোর সাথে কাজ করেছেন তারা হলেন:
- ডেভিডো (Davido)
- আয়রা স্টার (Ayra Starr)
- দ্য কেভমেন (The Cavemen)
আন্তর্জাতিক সংগীত জগতের বিশিষ্ট অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন বেশ কিছু বড় নাম:
- ফ্যারেল উইলিয়ামস (Pharrell Williams)
- কিংবদন্তি গিটারিস্ট নাইল রজার্স (Nile Rodgers)
- র্যাপার কুয়াভো (Quavo)
- কণ্ঠশিল্পী চার্লি উইলসন (Charlie Wilson)
এছাড়াও এই বিশাল প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করেছেন কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ফালি ইপুপা (Fally Ipupa), তানজানিয়ার ডায়মন্ড প্ল্যাটনামজ (Diamond Platnumz), ব্রাজিলের জনপ্রিয় গায়িকা ইজা (IZA), পিজে মর্টন (PJ Morton) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত সোয়েটো গসপেল কয়্যার (Soweto Gospel Choir)।
এই বিশাল তারকার সমাবেশ মূলত মহাদেশগুলোর মধ্যে একটি সংগীতময় সংলাপ তৈরির প্রতি কিজোর আজীবন প্রচেষ্টাকেই ফুটিয়ে তোলে। তিনি বিশ্বাস করেন যে সংগীতের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই এবং এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে সক্ষম।
অ্যাঞ্জেলিক কিজোর আগের অ্যালবাম “Mother Nature” (২০ ২০২১) বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল এবং ২০২২ সালে এটি তাকে ‘সেরা গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম’ বিভাগে তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যামি পুরস্কার এনে দেয়। তার এই ধারাবাহিক সাফল্য তাকে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রধান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ক্যারিয়ারের কয়েক দশকে কিজো নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান নারী শিল্পী হিসেবে হলিউড ওয়াক অফ ফেম-এ তারকা লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার এই অর্জন সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয় এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা।
সংগীতের বাইরেও কিজো একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি ইউনিসেফের (UNICEF) গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন এবং বাটোঙ্গা (Batonga) ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, যা আফ্রিকায় সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
“Hope!!” অ্যালবামের প্রি-অর্ডার ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিজোর জন্য এই অ্যালবামটি কেবল তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায় নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের মানবিক মিশনেরই একটি শৈল্পিক সম্প্রসারণ।
তিনি সংগীতকে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চান যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রজন্ম একে অপরের সাথে মিলিত হতে পারে। তার প্রতিটি সুর যেন এক একটি আশার বাণী হয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ছন্দ এক সুরে মিলিত হয়, তখন তারা কেবল নতুন ধ্বনিই তৈরি করে না, বরং সংস্কৃতির মধ্যে এক নতুন মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। সংগীত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্যও একই ছন্দে স্পন্দিত হতে পারে এবং সম্প্রীতির বার্তা দিতে পারে।
সম্ভবত এই কারণেই সংগীত আজও পৃথিবীতে অন্যতম সর্বজনীন ভাষা হিসেবে টিকে আছে। এটি মানুষের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করার এবং একে অপরের সাথে সংযুক্ত হওয়ার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
বিখ্যাত দার্শনিক গটফ্রিড লাইবনিজ সংগীতের গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “সংগীত হলো আত্মার পাটিগণিত, যা গণনা করে কিন্তু জানে না যে সে কী গণনা করছে।” কিজোর এই নতুন অ্যালবাম যেন সেই দর্শনেরই এক আধুনিক এবং সুরময় প্রতিফলন।
উৎসসমূহ
TV360 Nigeria
Daily Republic
Channels Television
The Nation Newspaper
AfricActu
TV360 Nigeria
TheCable Lifestyle
India TV
The Times of India
The Economic Times
Hindustan Times
ArcaMax Publishing



