ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় সহায়ক চিনিমুক্ত সকালের পানীয়ের বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা একটি অপরিহার্য বিষয়, এবং এই প্রক্রিয়ায় সকালের পানীয়ের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্তের গ্লুকোজের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামগ্রিক হাইড্রেশন বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞান-সমর্থিত সাতটি চিনিমুক্ত পানীয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। এই পানীয়গুলির মধ্যে রয়েছে উষ্ণ জল, সবুজ চা, দারুচিনি মিশ্রিত জল, বিভিন্ন ভেষজ চা, তাজা সবজির রস, পরিমিত পরিমাণে কালো কফি এবং মেথি বীজ ভেজানো জল।

সকালে খালি পেটে উষ্ণ জল পান করলে শরীর দ্রুত সতেজ হয় এবং হজম প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলে না। অন্যদিকে, সবুজ চা তার উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য পরিচিত, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং কোষের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাত্র ১ গ্রাম দারুচিনি যোগ করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। দারুচিনিতে উপস্থিত সিনামালডিহাইড এবং ইউজেনল নামক জৈব যৌগ প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। জার্নাল অফ মেডিসিনাল ফুড-এ প্রকাশিত একটি মেটা-বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দারুচিনির সম্পূরক টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের হিমোগ্লোবিন এ১সি এবং উপবাসে রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

মেথি বীজের জলও এই তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, কারণ এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার (গ্লুকোমেনান) খাদ্য থেকে চিনি অন্ত্রে শোষণের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল ফর ভিটামিন অ্যান্ড নিউট্রিশন রিসার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ভেজানো মেথি গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করতে সাহায্য করে এবং অ্যাডিপোনেকটিনের মতো উপকারী প্রোটিনের মাত্রা বাড়ায়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ চিনি ছাড়া কালো কফি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে পারে, কারণ এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। তবে ক্যাফেইন স্বল্প মেয়াদে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে, তাই পরিমিত সেবন বা ডিক্যাফেইনেটেড কফি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিনিবিহীন ভেষজ চা, যেমন ক্যামোমাইল, পিপারমিন্ট বা আদা চা, পানীয়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে কারণ এগুলি অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাজা সবজির রস, যেমন শসা বা পালং শাকের রস, বাড়িতে তৈরি করলে তা প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং ফাইবার সরবরাহ করে যা হজম স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে যেকোনো নতুন খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রমের মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলিও সহায়ক হতে পারে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Hindustan Times

  • Vertex AI Search

  • The Times of India

  • Verywell Health

  • Hindustan Times

  • Yahoo Life Singapore

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।