ফ্র্যাঙ্ক হারবার্টের কালজয়ী সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বিশাল সিনেমাটিক মহাবিশ্ব এখন তার মহাকাব্যিক সমাপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স তাদের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র 'ডিউন: পার্ট থ্রি'-এর প্রথম অফিসিয়াল স্থিরচিত্র এবং একটি সংক্ষিপ্ত টিজার ট্রেলার প্রকাশ করেছে। ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত 'ডিউন: মেসায়া' উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত এই তৃতীয় এবং শেষ কিস্তিটি আগের চলচ্চিত্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি অন্ধকার, গম্ভীর এবং উত্তেজনাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রখ্যাত পরিচালক ডেনি ভিলনোভ এবং সহ-চিত্রনাট্যকার ব্রায়ান কে. ভন এই প্রকল্পের মাধ্যমে পল অ্যাট্রাইডিসের জীবনকাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চলেছেন, যা দর্শকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে।
এই নতুন কিস্তিতে টিমোথি শালামে অভিনীত পল অ্যাট্রাইডিসের একটি বিশেষ দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক এবং শরীরে যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নসহ দেখা যাচ্ছে। কাহিনীর এই অংশটি 'পার্ট টু'-এর ঘটনার প্রায় ১২ থেকে ২০ বছর পরের সময়কালকে তুলে ধরবে, যা দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক। এই পর্বে মূলত সম্রাট হিসেবে পলের শাসনকাল এবং তার মসিহ বা ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ভয়াবহ পরিণতির ওপর আলোকপাত করা হবে। 'ডিউন: মেসায়া' উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো পলের সেই সংগ্রাম, যেখানে তিনি তার নামে পরিচালিত ধর্মযুদ্ধের ফলে মহাবিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু এবং ধ্বংসলীলার মুখোমুখি হন। যদিও তার অলৌকিক দূরদর্শী ক্ষমতা তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, এই ধ্বংসযজ্ঞই ছিল মহাবিশ্বের জন্য সম্ভাব্য সেরা পথ।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর 'ডিউন: পার্ট থ্রি' বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এই মুক্তির তারিখটি চলচ্চিত্রটিকে মার্ভেল স্টুডিওর 'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে'-এর সাথে এক সরাসরি এবং কঠিন বক্স অফিস লড়াইয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যাকে চলচ্চিত্র প্রেমীরা ইন্টারনেটে 'ডিউনসডে' নামে অভিহিত করছেন। তবে ওয়ার্নার ব্রাদার্স তাদের এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, কারণ আগের দুটি কিস্তি সম্মিলিতভাবে বিশ্বজুড়ে ১.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে রেকর্ড গড়েছে। বক্স অফিসে নিজেদের আধিপত্য সুনিশ্চিত করতে 'ডিউন: পার্ট থ্রি' মুক্তির প্রথম তিন সপ্তাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত আইম্যাক্স (IMAX) থিয়েটারে একচেটিয়াভাবে প্রদর্শিত হওয়ার বিশেষ অধিকার লাভ করেছে।
এই কিস্তিতে অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন এবং প্রভাবশালী নাম। জনপ্রিয় অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন এই চলচ্চিত্রে প্রধান খলনায়ক 'স্কাইটাল'-এর ভূমিকায় অভিনয় করবেন, যিনি একজন ধূর্ত ছদ্মবেশী এবং পারমাণবিক অস্ত্রের সাহায্যে পলকে অন্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন। আগের পর্বের তারকাদের মধ্যে জেনডায়া (চানি), রেবেকা ফার্গুসন (লেডি জেসিকা) এবং ফ্লোরেন্স পিউ (প্রিন্সেস ইরুলান) তাদের স্ব-স্ব চরিত্রে ফিরে আসছেন। উপন্যাসের কাহিনী অনুযায়ী পলের স্ত্রী হিসেবে প্রিন্সেস ইরুলানের চরিত্রটি এই পর্বে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় হয়ে উঠবে। এছাড়াও আনিয়া টেলর-জয়কে পলের বোন আলিয়া অ্যাট্রাইডিসের চরিত্রে দেখা যাবে, যার ভূমিকা দ্বিতীয় পর্বের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতির তুলনায় এখানে অনেক বেশি বিস্তৃত হবে। জেসন মোমোয়া ডানকান আইডাহো হিসেবে এবং হাভিয়ের বারদেম স্টিলগার হিসেবে তাদের অভিনয় অব্যাহত রাখবেন। অস্কারজয়ী সুরকার হ্যান্স জিমারও এই শেষ কিস্তির জন্য নতুন সুর সৃষ্টির কথা নিশ্চিত করেছেন।
পরিচালক ডেনি ভিলনোভ শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, তিনি 'মেসায়া' উপন্যাসের মাধ্যমেই এই ট্রিলজিটি শেষ করতে চান যাতে কাহিনীর জটিলতা দর্শকদের কাছে সহজবোধ্য থাকে। তিনি দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পাওয়ার আগেই এই সিনেমার চিত্রনাট্যের কাজ শুরু করেছিলেন এবং প্রতিটি দৃশ্যকে আগের দুটি সিনেমা থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই চূড়ান্ত পর্বে বিশাল ভিজ্যুয়াল গ্র্যান্ডিউর বা দৃশ্যশৈলীর পাশাপাশি পল অ্যাট্রাইডিসের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি এবং তার নৈতিক দোটানাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। বুদাপেস্ট এবং আবুধাবিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে এর শুটিং পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।



